
X
ফাইল ছবি
সুনামগঞ্জের শাল্লায় গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি সন্দেহে আটক এক ব্যক্তিকে তথ্যের অসঙ্গতি থাকায় প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
জানা যায়, সম্প্রতি শাল্লা উপজেলার নারকিলা গ্রাম থেকে পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি সন্দেহে মোঃ তাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেন শাল্লা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) গোলাম কিবরিয়া ও কনস্টেবল মান্না মিয়াসহ পুলিশের একটি টিম।
পরবর্তীতে পরোয়ানায় উল্লিখিত তথ্যের সঙ্গে আটক ব্যক্তির নাম ও পিতৃ পরিচয়ে অমিল পাওয়া যায়। আটক ব্যক্তির নাম মোঃ তাজুল ইসলাম, পিতা: মোঃ আব্দুল মালেক, গ্রাম: নারকিলা (নারগিলা)
অথচ পরোয়ানাভুক্ত প্রকৃত আসামির নাম মোঃ তাজেল (২৭), পিতা: মোঃ আব্দুল খালেক, গ্রাম: নারকিলা।
নির্দোষ কোনো ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন—তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেন।
এদিকে আসামি মুক্ত হওয়ার পর স্থানীয় পর্যায়ে আর্থিক লেনদেনের যে গুঞ্জন বা রটনা ছড়িয়েছে অনুসন্ধানে তার কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। সম্পূর্ণ আইনগত ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ভুল পরিচয় জনিত কারণে ওই ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার বিষয়ে এএসআই গোলাম কিবরিয়া এই প্রতিবেদককে জানান, পরোয়ানার তথ্যের সঙ্গে আটক ব্যক্তির নাম ও পিতৃ পরিচয়ে সুস্পষ্ট অসঙ্গতি থাকায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে থানায় না এনে যাচাই-বাছাই শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়। আর আমর বিরুদ্ধে সিলেটের একটি স্থানীয় দৈনিক সবুজ সিলেট পত্রিকায় যে অনৈতিক লেনদেনের বিষয়টি প্রকাশ হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন ও অসত্য আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।
পাশাপাশি এএসআই গোলাম কিবরিয়ার বদলি প্রসঙ্গে জানান গত ১৪ জুলাই জামালগঞ্জ থানা থেকে তাকে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে নয়, বরং নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে 'জনস্বার্থে' শাল্লা থানায় বদলি করা হয়েছে যার স্মারক নং ৩০৩১ জেলা আদেশ নং ১১-৪২ (১)
এ বিষয়ে শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ মোঃ শওকত আলী জানান, "পুলিশ যাকে সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল, তিনি হলেন মোঃ তাজুল ইসলাম (পিতা: মোঃ আব্দুল মালেক)। কিন্তু প্রকৃত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হলেন মোঃ তাজেল (২৭) পিতা: মোঃ আব্দুল খালেক ভুল পরিচয়ের কারণে নির্দোষ ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দৈনিক সবুজ সিলেট পত্রিকায় ১ আগস্ট এএসআই কিবরিয়াকে নিয়ে যে সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন।"