‘প্রাপ্তবয়স্ক নারীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত’ ধর্ম ও বিয়ে নিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টের বার্তা

অনলাইন ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে বলেছেন, প্রাপ্তবয়স্ক নারীরা নিজেদের ইচ্ছা ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধর্ম গ্রহণ এবং

2026-08-03T12:35:08+00:00
2026-08-03T12:35:08+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
‘প্রাপ্তবয়স্ক নারীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত’ ধর্ম ও বিয়ে নিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টের বার্তা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম   (ভিজিট : ২১)
ফাইল ছবি
X

ফাইল ছবি

ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে বলেছেন, প্রাপ্তবয়স্ক নারীরা নিজেদের ইচ্ছা ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধর্ম গ্রহণ এবং পছন্দের ব্যক্তিকে বিয়ে করার পূর্ণ সাংবিধানিক অধিকার রাখেন। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে পরিবার, সমাজ কিংবা অন্য কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

সোমবার (৩ আগস্ট) প্রকাশিত দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। আদালতের এ রায়কে ব্যক্তিস্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নারীর সাংবিধানিক অধিকারের ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সম্প্রতি ভারতে ২০ বছর বয়সী দিব্যা ভাটিয়া ওরফে জয়া দিয়া ভাটিয়া এবং ৩৫ বছরের অংশু ভাটিয়া ওরফে আমিনা অংশু ভাটিয়া নামে দুই বোন হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর নিজেদের ইচ্ছায় বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু তাদের বাবার অমত থাকায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের যোগসাজশে তাদের জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়েছে বলে তাদের করা একটি হেবিয়াস কর্পাস রিটে অভিযোগ করা হয়। এই রিটের শুনানির সময় বিচারপতি সন্দীপ জৈন এই রায় দেন।

গত ৩১ জুলাই হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়, এই দাবিগুলো যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে ওই নারীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় বাবা বা অন্য কারও হস্তক্ষেপ তাদের সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত অধিকার যেমন মর্যাদা, গোপনীয়তা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বায়ত্তশাসনের ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে। ‘স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছেন’

তারা দাবি করেছেন, প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হওয়ায় তারা কোনো প্রকার জবরদস্তি, প্রলোভন বা অযাচিত প্রভাব ছাড়াই স্বেচ্ছায় হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তারা আরও জানান, তারা নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী বিয়ে করার সিদ্ধান্তও নিয়েছেন, যা তাদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন থেকে উদ্ভূত একটি সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত অধিকার।

তাদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলী বিন সাইফ ও দীনেশ কুমার যাদব আদালতে বলেন, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর তারা স্বেচ্ছায় ধর্মান্তরিত হয়ে নিজেদের পছন্দমতো জীবনসঙ্গীকে বিয়ে করেছেন। কিন্তু তাদের এই স্বাধীন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে বাবা ২০২৫ সালের ৪ মে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ৮৭ ধারায় একটি মিথ্যা ও বিদ্বেষপ্রসূত এফআইআর দায়ের করেন। ওই ধারায় নারীকে অপহরণ, জোরপূর্বক তুলে নেওয়া বা বিয়েতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে শাস্তির বিধান রয়েছে।

আইনজীবীরা আরও দাবি করেন, এ মামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল দুই নারীর আইনসম্মত ও সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করা এবং তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগ করা। এমনকি স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় বাবা তাদের বেআইনিভাবে আটকে রেখে ব্যক্তিস্বাধীনতা খর্ব করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

আদালতে আরও বলা হয়, যেহেতু দুই নারী সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ধর্মান্তরিত হয়েছেন, তাই উত্তর প্রদেশ বেআইনি ধর্মান্তর প্রতিরোধ আইন, ২০২১-এর বিধান এ ঘটনায় প্রযোজ্য নয়। কারণ, মামলায় এমন কোনো অভিযোগ বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি, যা থেকে বোঝা যায় ধর্মান্তরটি বলপ্রয়োগ, প্রতারণা, জবরদস্তি, অযাচিত প্রভাব, প্রলোভন বা মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে।

বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্ট উত্তর প্রদেশ প্রশাসন এবং দুই নারীর বাবাকে আগামী ৬ আগস্ট আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ওই দিন আবেদনকারী দুই বোনকে আদালতে উপস্থিত করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের কারণ দর্শানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত হলফনামা দাখিলের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।





Loading...
Loading...


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy