সম্প্রতি বাজিতপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম রিয়েলের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। মৎস্য বিভাগ জানায়, একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে নগনার খালসহ আশপাশের জলাশয়ে নিষিদ্ধ রিং জাল ও কারেন্ট জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছের পোনা এবং বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ আহরণ করে আসছিল। এতে জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে অবৈধ জালের অবাধ ব্যবহারের কারণে ঘোড়াউত্রা নদীসহ হাওরবেষ্টিত বাজিতপুর, নিকলী, অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন উপজেলার নদ-নদী ও জলাশয়ে প্রায় ৬০ থেকে ৬৪ প্রজাতির দেশীয় মিঠাপানির মাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দেশীয় মাছের প্রজনন ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে মাছের পোনা রক্ষায় নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, দেশীয় মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ায় হাওরাঞ্চলের শতাধিক মাছের আড়তের ব্যবসায়ীরা চরম সংকটে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, আগের মতো মাছ না পাওয়ায় ব্যবসায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। অনেকে বাধ্য হয়ে মাছের ব্যবসা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাওয়ার কথাও ভাবছেন।
মৎস্য বিভাগ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে জানিয়েছে, জলজ সম্পদ রক্ষা এবং দেশীয় মাছের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইন প্রয়োগ আরও জোরদার করা হবে।