
X
ছবি: প্রতিনিধি
নেসকো’র প্রিপেইড মিটারের নামে অতিরিক্ত চার্জ কেন ? এবং ঘন-ঘন লোড-শেডিং নিয়ে নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিদ্যূৎ গ্রাহকদের মধ্যে নানা প্রশ্নসহ চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এসব বিষয় নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে গ্রাহকদের বিরুক্তিকর ও ক্ষোভ প্রকাশ করাসহ নানারকম বক্তব্য ও মন্তব্য প্রকাশ করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগি অনেক বিদ্যূৎ গ্রাহক স্থানীয় সংবাদকর্মিদের নিকট এসব বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কেন এসব সমস্যা নিয়ে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় খবর প্রকাশ করা হচ্ছে না ? তা’ নিয়েও সংবাদকর্মিদের ওপর তাদের নাখোশ হওয়ার কথাও প্রকাশ করছেন।
স্থানীয় ভুক্তভোগি বিদ্যূৎ গ্রাহকদের দাবি-আমরা সাধারণ গ্রাহকরা জানতে চাই, দেশে এতো বেশি বিদ্যূৎ উৎপাদন বাড়ার খবর পাওয়া গেলেও কেন ঘন-ঘন লোড-শেডিং হচ্ছে ? আমরা ব্যবহৃত বিদ্যূৎ বিল তো দিচ্ছিই, তারপরেও প্রতিমাসে ভ্যাট, ডিমান্ড চার্জ এবং বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত টাকা কেন কাটা হচ্ছে ? দীর্ঘদিন থেকে এ অবস্থা বিরাজ করলেও ন্যাশনাল ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) কর্র্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকার বিদ্যূৎ গ্রাহকদের মাঝে প্রশ্নসহ ক্ষোভ চরম আকার ধারণে করেছে।
স্থানীয় বিদ্যূৎগ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন, প্রিপেইড মিটার ব্যবহারের উদ্দেশ্য ছিল স্বচ্ছতা ও সুবিধা। কিন্তু, যদি প্রতিমাসে মিটার ভাড়া ৪০ টাকাসহ নানাধরনের চার্জ কেটে নেওয়া হয় তা’হলে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপের সৃষ্টি হচ্ছে।
তাই, আমাদের দাবি: প্রতিমাসে মিটার ভাড়া, ভ্যাট, ডিমান্ড চার্জসহ সবধরনের চার্জ কর্তনের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। অযৌক্তিক চার্জ থাকলে তা’ বাতিল করতে হবে। বিদ্যূৎ বিলের হিসাব সম্পূর্ণ স্বচ্ছ করতে হবে। সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এজন্যে স্থানীয় বিদ্যূৎ গ্রাহকরা সকলকে একট্টা হয়ে এর প্রতিবাদ জানানোসহ প্রতিমাসে ভ্যট, ডিমান্ড চার্জসহ স্বচ্ছ বিল প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃস্টি আকর্ষন করার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করার আহবান জানিয়েছেন। সেইসাথে ঘন-ঘন লোড-শিডিং কেন ? এ প্রশ্ন এখন ভুক্তভোগি বিদ্যূৎ গ্রাহকদের মাঝে।
মইনুল ইসলাম, প্রভাত ও দেলোয়ার হোসেনসহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় বিদ্যূৎ গ্রাহক এ বিষয়ে দাবি আদায়ে স্থানীয়ভাবে বিদ্যূৎ গ্রাহক সংগঠন গঠনের কথাও জানান দিয়েছেন।
এসব বিষয় নিয়ে মোবাইল ফোনে ন্যাশনাল ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানীর (নেসকো) সৈয়দপুর অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী (আবাসিক) আলিমুল ইসলামের সাথে কথা হলে জানান, এখন গরম চলছে। সারাদেশেই বিদ্যূতের ওপর চাপ বেশী। তাছাড়া, আমাদের এখানে বিদ্যূতের চাহিদা ৪০ মেগওয়াট কিন্তু, সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ মেগওয়াট। সরবরাহের ঘাটতির কারণে লোড-শেডিং হচ্ছে।
ভ্যাট, ডিমান্ড চার্জ ও প্রিপেইড মিটার ভাড়া সম্পর্কে তিনি জানান, যখন থেকে বিদ্যূৎ সরবরাহ দেশে চালু হয়েছে তখন থেকেই ভ্যাট ও ডিমান্ড চালু রয়েছে। কাজেই এ বিষয়ে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা’ গুজব (রিউমার) ছাড়া কিছু না। আর প্রতিমাসে মিটার ভাড়ার ব্যাপারে তিনি জানান, এটা সরকারও জানেন।
এটার ব্যাপারে আমাদের করার কিছু নেই। এসব মিটার বসাতেই সরকারকে অনেক ভুতর্কি দিতে হয়েছে। বিদ্যূৎ বিল বেশী হচ্ছে এ বিষয়ে তিনি জানান, ব্যবহারের উপর বিল আসে। যেমন- বাসা-বাড়িতে ইউনিট প্রতি ৫ টাকা ৩২ পয়সা বিল হয়। ৬শ’ ইউনিটের বেশী ব্যবহার করা হলে ইউনিট প্রতি ১৭ টাকা ৩৫ পয়সা বিল আসে। এখানে অতিরিক্ত বিল হওয়ার সুযোগ নেই।
তাছাড়া, এর আগের সরকারের আমলে তিন দফা ইউনিট প্রতি বিদ্যূৎ বিল বাড়ানো হয়েছিল। এ সরকারের আমলেও আরেক দফায় বিল বাড়ানো হয়েছে। তাই, ব্যবহার যেমন বেড়েছে তেমনি ইউনিট প্রতি বিলও বেড়েছে। কাজেই, অতিরিক্ত বিল নেওয়ার সুযোগ নেই।