
X
স্লুইসগেট ভেঙ্গে চলাচল বন্ধ
নীলফামারীর ডোমারে হরিরডারা নদীর পানির চাপে একটি স্লুইস গেট ভেঙ্গে গিয়ে নদীর পাড় ধসে একটি বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।
রোববার দুপুরে হরিরডারা নদীর ওপর নির্মিত স্লুইসগেটটি ধসে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্লুইস গেটের নিচে ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রবেশের পর ভাঙনের সৃষ্টি হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং পাশের একটি বসতবাড়ির বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
সোমবার (৩ আগস্ট) সরেজমিনে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, স্লুইসগেট ভেঙে যাওয়ায় যাতায়াতের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানায়, এই স্লুইসগেটের উপর দিয়েই কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত এবং আশপাশের কৃষিজমির পানি নিয়ন্ত্রণ করা হতো। স্লুইসগেট ধসে যাওয়ার পর শুধু একটি বাড়িই নদীগর্ভে বিলীন হয়নি, বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পুরো এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ পরিবার এখন দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয়রা কোমরসমান পানিতে নেমে সাইকেল ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে নদী পারাপার হচ্ছেন। শিশু, নারী, বৃদ্ধ থেকে শুরু করে শ্রমজীবী মানুষ সবাই পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন ভ্যান ও অটোরিকশা চালকরা। যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের আয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
ভ্যানচালক রশিদুল ইসলাম বলেন, আগে এই রাস্তা দিয়েই সহজে মেইন রোডে উঠে যাত্রী পেতাম। এখন গ্রামের ভেতর দিয়ে ৭-৮ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে। যেতে-আসতেই গাড়ির ১৫-২০ কিলোমিটারের চার্জ শেষ হয়ে যায়।অটোরিকশাচালক শাহিন আলম বলেন, এই রাস্তা বন্ধ হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি আমাদের হয়েছে। দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয় ভ্যানচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা গরিব মানুষ, গাড়ি চালিয়েই সংসার চলে। যেদিকে বেশি ভাড়া পাওয়া যেত, সেদিকে এখন আর যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই দ্রুত অন্তত একটি অস্থায়ী পারাপারের ব্যবস্থা করা দরকার।
স্লুইসগেট ভেঙ্গে গিয়ে একটি পরিবারের ভিটেমাটি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শায়লা সাঈদ তন্বী ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সহায়তা দেন। খুব দ্রুত স্লুইসগেটটি নির্মাণ করা হবে বলে তারা আশ্বাস দেন।
জোড়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হাবীব বাবু বলেন, আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছি। আপাতত মানুষের চলাচলের জন্য একটি অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
ডোমার উপজেলা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ফিরোজ আলম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রবেশের কারণে ভাঙ্গনের সূচনা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হবে।