প্রকাশ: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৫ পিএম (ভিজিট : ৬৯)

X
ভাঙ্গুড়া থানা
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় আব্দুস সাত্তার (৮০) নামের এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে পাঁচ বছরের শিশুকে বিস্কুটের লোভ দেখিয়ে ডেকে নিয়ে কবরস্থানের পাশে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার সকাল আটটার দিকে উপজেলার পৌর সদরের দুই নম্বর ওয়ার্ডের স্বর্ণকার পাড়া ও মাহবোলা কবরস্থানের প্রধান ফটকের সামনে পরিত্যক্ত একটি টিনের ঝুপড়ি ঘরে এ ঘটনাটি ঘটেছে। শিশুটির চিৎকারে স্থানীয় লোক দেখে ফেলায় শিশুটিকে রেখে তিনি পালিয়ে যান। এ ঘটনায় শিশুটির পিতা বাদী হয়ে ভাঙ্গুড়া থানায় ধর্ষণ চেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় ওই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মৃত মেসের উদ্দিনের ছেলে ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তার পেশায় একজন শিলপাটা ধারকাটিয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে। তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
ঘটনার দিন সকাল আটটার দিকে শীল পরিবারের ছোট্ট শিশুটি বাড়ির সামনে দিয়ে খেলাধুলা করছিলেন। লোকজন না থাকার ফাঁকে ওই বৃদ্ধা শীল পরিবারের ছোট্ট শিশুটিকে বিস্কুটের লোভ দেখিয়ে ফুঁসলিয়ে ছোট্ট একটি পরিত্যক্ত টিনের ঝুপড়ি ঘরে নিয়ে যায়। এরপর তাকে ধর্ষণ চেষ্টা করে।
শিশুর চিৎকারে ও চেঁচামেচিতে লোকজন এগিয়ে আসলে বৃদ্ধ সাত্তার শিশুটিকে ছেড়ে দিয়ে সটকে পড়েন। এরপর থেকে তিনি আত্মগোপনে আছেন। ওই শিশুটি বাড়িতে গিয়ে তার মা এবং পিসির কাছে ঘটনার আদ্যপ্রান্ত খুলে বলেন। এ ঘটনা শোনার পরে শিশুটির পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। প্রথমে স্থানীয়রা মীমোৎসর চেষ্টা করেও তা ব্যর্থ হন। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভিকটিমের সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত বিষয় নিশ্চিত হতে পারেন। পরে শিশুটির পিতা বাদী হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে আসামীকে পুলিশ গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
শীল পরিবারের ভিকটিমের পিতা সাংবাদিকদের বলেন, আমার ছোট্ট শিশু। তার সঙ্গে যা হয়েছে তাতে আমার আর মান মর্যাদা রইলো না। প্রয়োজনে বসতবাড়ি বিক্রয় করে এলাকা ত্যাগ করা ছাড়া আমার আর কোন উপায় দেখছি না।
ওই এলাকার বাসিন্দা সাবেক সরকারি কর্মকর্তা মুকুল হোসেন জানান, এর আগেও একাধিকবার ঐ বৃদ্ধার এমন অপকর্মের কথা শুনেছি। এমন অপকর্মের সুষ্ঠু বিচার হওয়া দরকার।
ভাঙ্গুড়া থানার এস আই সুব্রত কুমার বলেন, আব্দুস সাত্তার সম্পর্কে এর আগেও আরো এমন ঘটনা শুনেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।