পরিবেশ রক্ষায় টাঙ্গুয়ার হাওরে ১১ দফা নির্দেশনা, নিবন্ধন ছাড়া চলবে না হাউসবোট

মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর ও তাহিরপুর উপজেলায় অবস্থিত প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশের পর্যটন এরিয়া টাঙ্গুয়ার হাওর। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা

2026-08-04T13:02:07+00:00
2026-08-04T13:02:07+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
পরিবেশ রক্ষায় টাঙ্গুয়ার হাওরে ১১ দফা নির্দেশনা, নিবন্ধন ছাড়া চলবে না হাউসবোট
মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ১:০২ পিএম   (ভিজিট : ৪৪)
ছবি: প্রতিনিধি
X

ছবি: প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর ও তাহিরপুর উপজেলায় অবস্থিত প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশের পর্যটন এরিয়া টাঙ্গুয়ার হাওর। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পর্যটকরা কেনাকাটার জন্য,মধ্যনগর বাজারেই সুবিধাজন স্থান মনে করেন তারা,এতে বাড়ছে পর্যটকের আনাগোনা।

এরমাঝে হাউসবোটের পরিচালকরা পরিবেশ বিষয়ক নিয়ম নীতি না মানার কারণে জেলা প্রশাসক কতৃক বৃহত্তর টাঙ্গুয়ার হাওর ও পর্যটক এলাকা জুড়ে, গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। 

ইতিমধ্যে হাউসবোটের সংখ্যাও অনেক বেড়েছে, তেমনই বাড়ছে পরিবেশ দূষণের মাত্রাও। যার দরুন প্রশাসন উদ্যোগ নিয়েছে ১১ দফার নির্দেশনা বাস্তবায়নের। 

পর্যটকদের পরিবেশগত সুরক্ষার জন্য, নির্দেশনায় বলা হয়েছে আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে হাউসবোটের অন্তর্ভুক্তি ও নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনিয় কাগজপত্র সহ সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন দাখিল করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে আবেদনে ব্যর্থ হলে, হাউসবোট ট্যুরের অনুমতি দেওয়া হবে না।

এছাড়াও সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ডি সি, ১১ দফা নির্দেশনায় বলা হয়েছে ইসিএ এলাকায় ইঞ্জিন চালিত হাউসবোট নৌযান প্রবেশ একেবারেই নিষিদ্ধ । হাওরে প্রবেশ করাকালীন উচ্চস্বরে গান মিউজিক মাইক বাজানো যাবেনা, প্লাস্টিকের জিনিসপত্র হাউসবোটে বহন করা যাবেনা, নিরাপদ বিশুদ্ধ পানিও জলের ফিল্টার ব্যাবহার করতে হবে। মানব বর্জ্য হাওরে ফেলা যাবেনা। নৌযানে পর্যাপ্ত পরিমাণ লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয় রিং রাখতে হবে। অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র রাখতে হবে, এবং গ্যাস সিলিন্ডার নিরাপত্তার নিশ্চিত করতে হবে।

মধ্যনগর ও তাহিরপুর উপজেলায় প্রায় ১২ হাজার ৬৫৫ হেক্টর এলাকা নিয়ে বিস্তৃত টাঙ্গুয়ার হাওরের চিত্রটি দেখতে চোখ ও মন জুড়িয়ে যায়। জানা যায় ২০০০ সালের ১০ জুলাই আন্তর্জাতিক জলাভূমি হিসেবে এটি রামসার সাইটের স্বীকৃতি পায় টাঙ্গুয়ার হাওর। হাওরটি মিঠাপানির মাছ ও জলজ উদ্ভিদ এবং দেশি-বিদেশি অতিথি পাখির গুরুত্বপূর্ণ অভয়াশ্রম আবাসস্থল হিসাবে নিরাপদ। তবে বর্তমানে নিয়ন্ত্রণহীন পর্যটনের হাউজবোটের তান্ডবে পরিবেশ দূষণের সৃষ্টি হয়েছে। এতে এই জলাভূমির জন্য প্রাকৃতিক লীলা ভূমি এখন চ্যালেঞ্জের মুখে পরেছে।

হাওরের সৌন্দর্য্য পর্যটনের মনোরম দৃশ্য প্রাকৃতিক লীলা ভূমি দেখতে কতোই না সুন্দর। এক পাশে ভারতের মেঘালয়ের পাহাড়, অন্যপাশে হাওরের বুকে হিজল- করচের সারি সারি গাছ। দেখতে যেনো চোখ জুড়িয়ে মনে আসে প্রশান্তি।  একঅনন্য দিগন্ত স্বচ্ছ জলরাশি, এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই প্রতিবছ হাজার হাজার পর্যটককে টেনে আনে ঐ টাঙ্গুয়ার হাওরের বুকে। পর্যটন এলাকা দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওর। 

তাছাড়া আরও আছে টেকেরঘাট,শিমুল বাগান,বারেক্কের ঠিলা,যাদুকাটা নদী, নীলাদ্রি লেকের নীলা পানি। এছাড়াও মধ্যনগর নান্দনিক ভাইরাল ব্রীজ দেখতে ভ্রমণ পিয়াসূরা ছুটে আসেন এসব দর্শনীয় স্থানে।

তবে মধ্যনগরে পর্যটকদের পরিপূর্ণ সুবিধার জন্য দরকার পাব্লিক টয়লেট,বিশুদ্ধ পানি, বিশ্রামাগার পার্কিংয়ের সুবিধা। অথচ তাদের পরিবেশ সুরক্ষার জন্য কোনধরনের সুব্যবস্হা নেই। কিন্তু পর্যটকের এই প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে হাউসবোটের সংখ্যা। সেই সঙ্গে বাড়ছে শব্দদূষণ, ক্ষতিকর প্লাস্টিক ও মানববর্জ্য। ফলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বাড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। 

স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাঁচ-ছয় বছর আগেও টাঙ্গুয়ার হাওরে হাউসবোটের সংখ্যা ছিল শতাধিক। বর্তমানে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় এর সংখ্যা দাড়িয়েছে ৫০০ থেকে ৬০০। এ অবস্থায় দরকার পর্যটকদের নিরাপত্তা, ভ্রমণ পিপাসুদের পরিবেশগত সুরক্ষা,তাই  প্রশাসনিক নজরদারি অতি জরুরী।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy