বাবাকে সিগারেট আনতে পাঠিয়ে মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টা এনসিপি নেতার

বানিয়াচং প্রতিনিধি

সারাবাংলা

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় এক কিশোরীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে উপজেলা এনসিপি আহ্বায়ক জীবন আহমেদ লিটনসহ দুইজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু

2026-08-06T20:37:20+00:00
2026-08-06T20:37:20+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা
বাবাকে সিগারেট আনতে পাঠিয়ে মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টা এনসিপি নেতার
বানিয়াচং প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৭ পিএম   (ভিজিট : ১৩২)
অভিযুক্ত জীবন আহমেদ লিটন
X

অভিযুক্ত জীবন আহমেদ লিটন

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় এক কিশোরীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে উপজেলা এনসিপি আহ্বায়ক জীবন আহমেদ লিটনসহ দুইজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলায় শ্লীলতাহানির অভিযোগের পাশাপাশি ভয়ভীতি প্রদর্শন, জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগও আনা হয়েছে।

থানা সূত্রে জানা যায়, বানিয়াচং থানার মামলা নং-০৫, তারিখ-০৫ আগস্ট ২০২৬। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ৯(৪)(খ)/৩০ এবং দণ্ডবিধি (পেনাল কোড), ১৮৬০-এর ধারা ৫০৬-এ রুজু করা হয়েছে।

মামলার বাদী ১১নং মক্রমপুর ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ফারুক মিয়া। গত সোমবার (৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এই মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে তিনি উপজেলার ২নং উত্তর-পশ্চিম ইউনিয়নের শেখের মহল্লা গ্রামের বাসিন্দা মো. জীবন আহমেদ লিটন (৩৫) এবং ১১নং মক্রমপুর ইউনিয়নের কাবিলপুর গ্রামের কৃষ্ণ রায় (৫০)-কে অভিযুক্ত করেছেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২ আগস্ট ২০২৬ দুপুরে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের উদ্দেশ্যে বাদী তাঁর কিশোরী মেয়েকে নিয়ে বানিয়াচং বড়বাজারের ‘হাসি খুশি ডিজিটাল স্টুডিও’-তে যান। 

অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে বাদীকে পান-সিগারেট আনার কথা বলে দোকানের বাইরে পাঠানো হয়। সেই সুযোগে স্টুডিওতে একা থাকা কিশোরীর শরীরে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন এনসিপি নেতা জীবন আহমেদ লিটন। পরে বাদী ফিরে এলে অভিযুক্ত লিটন সরে যান। দোকান থেকে বের হওয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়া কিশোরী তাঁর বাবার কাছে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় আরও বলা হয়েছে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, বিষয়টি তারা স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির কাছে উপস্থাপন করলে সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা হয়। তবে পরে অভিযুক্তরা তাদের পথরোধ করে মামলা না করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন, প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং জোরপূর্বক একটি ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে পরিবারের সম্মানহানি করা হয়। পাশাপাশি সাংবাদিকদের বিভ্রান্ত করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো, মামলা না করার জন্য ক্রমাগত ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয়। এসব কারণে পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘটনার পর থেকে তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। সন্তানদের নিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতেও তারা ভয় পাচ্ছেন। ন্যায়বিচারের দাবিতে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পর হামলা কিংবা আরও বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা করছেন বলেও তারা জানান। এ অবস্থায় পরিবারটি প্রশাসনের কাছে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনার উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

বাদী মো. ফারুক মিয়া বলেন, “আমরা কোনো ব্যক্তিগত প্রতিশোধ চাই না। আমরা শুধু আইনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই। আমার মেয়ের সঙ্গে যা ঘটেছে, তার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবার এমন ঘটনার শিকার না হয়।”

এ বিষয়ে বানিয়াচং থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) কবির হোসেন বলেন, “মামলাটি এফআইআর হিসেবে রুজু করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর বয়স কম হওয়ায় তাকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” 

মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযোগটি আমলে নিয়ে ০৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে মামলাটি রুজু করা হয়েছে এবং বর্তমানে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বানিয়াচং উপজেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল, সামাজিক সংগঠন ও মানবাধিকারকর্মীরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জীবন আহমেদ লিটন ও কৃষ্ণের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy