
X
নাগরিক সংলাপ
ঝালকাঠিকে দেশের অন্যতম সাংস্কৃতিক, পর্যটন, ক্রীড়া ও স্বাস্থ্যসেবার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে ঝালকাঠি সদর পৌরসভার নাগরিক সংলাপে। এ সময় সাংস্কৃতিক হাব, ক্রীড়া পল্লী, বাসন্ডা সেতু, ২৫০ শয্যার হাসপাতাল এবং শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের ক্যাম্পাস স্থাপনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ঝালকাঠি পৌরসভার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় সদর পৌরসভার সমস্যা, সম্ভাবনা ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন বিষয়ক নাগরিক সংলাপ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাত হোসেন, পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) মামুন আল ইসলাম এবং সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর।
সংলাপে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মমিন উদ্দিন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঝালকাঠি পৌরসভার প্রশাসক জুলিয়া সুকায়না।
এ সময় পৌর এলাকার নাগরিক, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। বক্তারা পৌরসভার সড়ক, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিশুদ্ধ পানি, পরিচ্ছন্নতা এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, আমরা সংস্কৃতিকে মনিটাইজ করতে চাই। ঢাকার বাইরে প্রথম সাংস্কৃতিক হাব হবে ঝালকাঠিতে। ৮৪ একর জায়গাজুড়ে ইকোপার্ক, অপেরা হাউস, থিয়েটার, কনভেনশন সেন্টার, কুটির শিল্প ও পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। প্রথম ধাপে ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও কুটিরশিল্প এক জায়গায় তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি ব্যাকওয়াটার ট্যুরিজমের মাধ্যমে ঝালকাঠিকে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, দেশের কয়েকটি ক্রীড়া পল্লীর মধ্যে একটি হবে ঝালকাঠিতে। ইতোমধ্যে ১৬ একর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানে ইনডোর-আউটডোর স্টেডিয়াম, সুইমিংপুল ও প্রশিক্ষণ সুবিধাসহ আধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে।
সংলাপে তিনি আরও জানান, নদীভাঙন রোধ ও নদীশাসনের মাধ্যমে নদীকেন্দ্রিক পর্যটন ও বিনোদনের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এছাড়া ঝালকাঠির বহুল প্রতীক্ষিত বাসন্ডা সেতুর নকশাগত জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত দরপত্র আহ্বান এবং নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।
ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, চলতি মাসের শেষ দিকে অথবা নভেম্বরের শুরুতে ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল ২৫০ শয্যায় পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে। পাশাপাশি গাবখান সেতুর পূর্ব পাশে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের ঝালকাঠি ক্যাম্পাস এবং ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংলাপ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে ঝালকাঠি পৌরসভাকে আরও আধুনিক, বাসযোগ্য, পরিবেশবান্ধব ও জনবান্ধব নগরীতে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।