গ্রামবাংলার নদী-খাল ও জলাশয়ে এখন নতুন পানির মধ্যে চলছে সোনালী আঁশ পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো এবং রোদে শুকানোর ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা।
দামুড়হুদার কৃষকরা তাদের সোনালী স্বপ্ন বুনছেন সোনালী আঁশ ঘরে তোলার জন্য। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার বিভিন্ন খাল, বিল ও জলাশয়ে এখন চলছে পাট ধোয়ার শেষ মুহুর্তের ব্যস্ততা। ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হয় পাট ধোয়ার কাজ। এরপর শুকিয়ে বাজারে বিক্রি করে থাকে।
বাংলাদেশ সোনালী আশেঁর দেশ। এক সময় প্রধান অর্থকরী ফসল ছিল পাট। দামুড়হুদা উপজেলায় পাটের ফলন এ বছর ভালো। বর্তমানে বাজারমূল্য ভালো থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করছেন স্থানীয় চাষিরা। সরেজমিনে দেখা যায়, পাট কাটা, জাগ দেয়া, পাটকাঠি থেকে পাট ছাড়ানো ও শুকানো নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। পাটের বীজ বপন থেকে শুরু করে আঁশ ছাড়িয়ে বিক্রির জন্য প্রস্তত করা পর্যন্ত যে খরচ হয় তাতে করে বর্তমান বাজারদরে পাট বিক্রি করলে লাভ হবে কৃষকদের।
দামুড়হুদা কৃষি অফিসসুত্রে জানাযায়, এ বছর দামুড়হুদা উপজেলায় ৪ হাজার ১শ’ ৩৮ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে যা লক্ষ্যমাত্রাে চেয়ে বেশী। দামুড়হুদার কয়েকটি এলাকায় আগাম পাটের চাষ করায় ইতোমধ্যে বিক্রি শুরু হয়েছে। অনেকের পাট বিক্রির প্রস্ততি চলছে। তবে এ বছর পাটের বাজার মূল্য ভালো থাকায় কৃষকরা খুশি।
ইতোমধ্যে বাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। পাটের বাজারে মণ প্রতি ৩ হাজার টাকা। তবে পাটের আশের কালার ভালো হলে দাম ৩ হাজার ৩শ টাকা পর্যন্ত বেচা-কেনা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী বদরুদ্দীন বুদো ও স্বপন বলেন, বর্তমানে মণ প্রতি পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৫শ’ টাকা। বাজার অনুযায়ী পাটের দাম আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উপজেলার ধান্যঘরার পাটচাষী জহিরুল বলেন, পাট ঘরে তুলতে যে খরচ হয় তাতে করে বর্তমান দাম অনুযায়ী বিক্রি করলে অল্প কিছু লাভ হবে। তবে বাজারে দাম ভালো হওয়ায় আমরা খুশি। পাটের ফলন ভালো হয়েছে।
দামুড়হুদা উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা অভিজিত কুমার জানান, এ উপজেলার আবহাওয়া পাট চাষের জন্য যথেষ্ট উপযোগী। এ কারণে প্রতি বছরই এখানে পাটের ফলন ভালো হয়। চলতি বছরও ভালো ফলন হয়েছে। আমরা কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ ও সরকারী প্রনোদনা দিয়ে থাকি। বাজারে পাটের দামও ভালো আশাকরি সামনে আরো পাটের দাম বাড়বে।