প্রকাশ: রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম (ভিজিট : ৩)

X
ছবি : প্রতিনিধি
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার কাছিকাটা বাজারসংলগ্ন রানীগ্রাম-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠটি বছরের ছয় মাস জলাবদ্ধতায় ডুবে থাকে। ফলে শিক্ষার্থীদের প্রাত্যহিক সমাবেশ (অ্যাসেম্বলি) ও খেলাধুলা কার্যত বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। সেই সঙ্গে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় পুরো মাঠজুড়ে জমে আছে বৃষ্টির পানি। যেসব স্থানে পানি কম, সেখানেই জন্মেছে আগাছা। কাদা, ময়লা ও শ্যাওলায় পরিবেশ নোংরা হয়ে মাঠটি এখন মশার প্রজননকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে ২৩৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের নালা ভেঙে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বিদ্যালয় ও মাঠ তুলনামূলক নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই আশপাশের পানি মাঠে এসে জমে থাকে। ফলে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও সকালের সমাবেশ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ বলেন, “মাঠে সবসময় কাদাপানি থাকায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে থাকতে হয়। অনেক সময় তারা পিছলে পড়ে বই-খাতা ও পোশাক নষ্ট করে ফেলে। টানা বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষেও পানি ঢুকে পড়ে। বর্ষাকালে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যায়। এর পাশাপাশি বিদ্যালয়ে ভবনসংকটও রয়েছে। পুরোনো আধাপাকা টিনশেড ভবনের চালা ফুটো হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ও পোশাক ভিজে যায়।”
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিতু খাতুন, মো. সিয়াম ও মিফতাহুল জান্নাত জানায়, মাঠে পানি জমে থাকায় তারা খেলাধুলা ও অ্যাসেম্বলি করতে পারছে না। বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষের টিনের চালা দিয়ে পানি পড়ে। দ্রুত মাঠ ভরাট ও নতুন ভবন নির্মাণের দাবি তাদের।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির (এসএমসি) সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ মুঠোফোনে বলেন, “জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজকে জানানো হলে তিনি বালি ভরাটের মাধ্যমে মাঠ সংস্কারের ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।”
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আওলাদ হোসেন বলেন, তিনি সম্প্রতি যোগদান করায় বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। দ্রুত বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, “বিদ্যালয়ের মাঠ সংস্কার করে জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটাতে স্বাভাবিকভাবে খেলাধুলাসহ অন্যান্য কার্যক্রমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”