প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫০ পিএম (ভিজিট : ৬)

X
সংগৃহীত ছবি
মহাকাশে এক বছরেরও বেশি সময় ভেসে থাকার পর ইলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেটের একটি বিশাল অংশ আছড়ে পড়েছে চাঁদের পৃষ্ঠে। এতে চাঁদের মাটিতে তৈরি হয়েছে নতুন একটি গর্ত। এরই মধ্যে সংঘর্ষের আগে ও পরের ছবি প্রকাশ পেয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৫ আগস্ট ফ্যালকন-৯ রকেটের প্রায় চার টন ওজনের ওপরের অংশটি চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত হানে। ঘণ্টায় প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল গতিতে আছড়ে পড়া বস্তুটির সংঘর্ষের শক্তি প্রায় তিন টন টিএনটি বিস্ফোরণের সমান ছিল বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের।
সংঘর্ষের ফলে চাঁদের পৃষ্ঠে নতুন একটি গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার মহাকাশযান ‘দনুরি’ চাঁদের কক্ষপথ থেকে সংঘর্ষের পরের ছবি ধারণ করেছে। প্রকাশিত ছবিতে রকেটের আঘাতে তৈরি হওয়া গর্তের চিহ্ন দেখা গেছে। এ ছাড়া নাসার ‘লুনার রিকনাইস্যান্স অরবিটার’ থেকেও আরও বিস্তারিত ছবি পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দুটি চন্দ্রযান মহাকাশে পাঠানোর পর ফ্যালকন-৯ রকেটের নিচের অংশ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসে। তবে রকেটটির ওপরের অংশটি মহাকাশে থেকে যায়। পরবর্তী সময়ে সৌর কার্যকলাপ ও মহাকর্ষীয় শক্তির প্রভাবে সেটি ধীরে ধীরে চাঁদের দিকে চলে যায় এবং শেষ পর্যন্ত চন্দ্রপৃষ্ঠে আছড়ে পড়ে।
তবে বিজ্ঞানীদের কাছে চাঁদের এই গর্তের চেয়েও বড় উদ্বেগের বিষয় মহাকাশে জমতে থাকা বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ। তাদের মতে, পৃথিবীর কক্ষপথে বড় আকারের হাজার হাজার বস্তু ঘুরছে। এসব বস্তু অত্যন্ত উচ্চ গতিতে চলাচল করায় পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে বিপুল শক্তি উৎপন্ন হতে পারে।
উইকলি টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়া তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর একটি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট ব্র্যাড টাকার। আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু এলাকাকেও সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীর ওপর আছড়ে পড়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। তবে মহাকাশে রকেট, স্যাটেলাইট ও অন্যান্য বস্তুর সংখ্যা যত বাড়বে, ভবিষ্যতে এই ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের।
চাঁদের বুকে একটি রকেটের আঘাতে নতুন গর্ত তৈরি হলেও, বিজ্ঞানীদের মতে ঘটনাটি শুধু চাঁদের ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং মহাকাশে ক্রমবর্ধমান আবর্জনা ও ভবিষ্যৎ সংঘর্ষের ঝুঁকি নিয়ে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।