প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০২ এএম (ভিজিট : ১)

X
ছবি : প্রতিনিধি
আধিপত্য বিস্তার নিয়ে শরীয়তপুরের জাজিরায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মান্নান সরদার(৭৫) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছে। পাশাপাশি সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে বলে জানা যায়। তাছাড়া আহতদের মধ্যে একজনের হাতের কব্জি ককটেল বিস্ফোরণের ফলে ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছে।
সোমবার (১০-আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের লাউখোলা এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত মান্নান সরদার পার্শ্ববর্তী সেনেরচর ইউনিয়নের চরধুপুর চরকান্দি এলাকার বাসিন্দা বলে জানা যায়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লাউখোলা এলাকার রেজাউল শিকদার গ্রুপের সাথে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় তমিজ খাঁ গ্রুপের দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলে আসছে। সবশেষ গতকাল রবিবার থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করায় পুলিশও মোতায়েন করা ছিলো। কিন্তু জাতীয় জরুরি সেবার একটি ফোনকলে অন্যত্র সরে যাওয়ার ফলেই এই সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে।
সোমবার সন্ধ্যায় লাউখোলা এলাকায় দুপক্ষের লোকজন উক্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে বেশ কিছু ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসময়, বিস্ফোরণে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়। পরে গুরুতর আহত মান্নান সরদারকে উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে, নিহত মান্নান সরদার সংঘর্ষে জড়িত ছিলো কি-না বা তিনি কোন দলের সমর্থক কিনা সেটি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, তমিজ খাঁ পক্ষের সমর্থক রিপন মোল্লা হাতবোমার বিস্ফোরণেত আঘাতে গুরুতর আহত হলে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স থেকে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রোমান বাদশা জানান, বিস্ফোরণের আঘাতপ্রাপ্ত দু'জনকে আমাদের কাছে আনা হলে তাদের মধ্যে একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকায় রেফার করি। আর অপরজনকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করি।
অপরদিকে ঘটনার একদিন আগে থেকেই উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে লাউখোলা এলাকায় পুলিশের একটি টিম মোতায়েন করা হলেও উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি। বরং পুলিশ স্থান ত্যাগ করার পর সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। পরবর্তীতে এলাকাটিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে ভলে জানিয়েছে জাজিরা থানা পুলিশ।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) সালেহ আহমেদ জানান, দুইদিন ধরেই সেখানে উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে পুলিশ মোতায়েন করা ছিলো। কিন্তু জাতীয় জরুরি সেবার একটি ফোনকলে পুলিশ অন্যত্র সরে যাওয়াতেই এই ঘটনাটি ঘটে। একজন নিহত ও একজন আহত হওয়ার সংবাদ পেয়েছি। বর্তমানে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।