
X
ছবি: প্রতিনিধি
একদিনের সফরে আগামী রোববার কিশোরগঞ্জে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
সফরকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন সড়ক সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনাগুলোতে রং করার কাজও করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানাতে বিভিন্ন এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রস্তুতিও শেষ হয়েছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সাড়া জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সফরের কর্মসূচিকে নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার কিশোরগঞ্জ সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান। আগামী রবিবার ( ১৬ আগস্ট) সাড়ে ১০ টার দিকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর ব্রহ্মপুত্র নদের জলাশয়ে মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি উদ্বোধন এবং সেখানে একটি মাঠে মতবিনিময় করবেন।
সেখান থেকে কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধন করবেন।
এবং জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী চারিপাড়া সরকারি হ্যাচারি পরিদর্শন করবেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী দেশের মৎস্য খাতের উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং টেকসই মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে। এই অনুষ্ঠানে মৎস্য খাতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য নির্বাচিত ১৪ জন উদ্যোক্তার হাতে স্বর্ণপদক বা গোল্ড মেডেল তুলে দেওয়া হবে।
এরপর জেলা সার্কিট হাউজে সংক্ষিপ্ত বিরতির পর ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ পরিদর্শন শেষে বিকেল সাড়ে ৩টায় কিশোরগঞ্জ পৌরসভার পুরোনো স্টেডিয়ামে সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও বই বহনের জন্য স্কুলব্যাগ দেয়ার কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা দেয়ার কার্যক্রমও শুরু হবে।
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ পর্বে প্রধানমন্ত্রী ১০ জন নারী পরিবার প্রধানের হাতে কার্ড তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ‘দ্য ডিজিটাল ক্লিক’-এর মাধ্যমে উপকারভোগীদের ফ্যামিলি কার্ডের সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করবেন তিনি।
ইতোমধ্যে তার কার্যালয় থেকে এই সফরসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী সার্বিক প্রস্তুতিও জোরদার করেছে প্রশাসন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে উজ্জীবিত কিশোরগঞ্জের বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে দলীয়ভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীকে কোথায় কীভাবে স্বাগত ও শুভেচ্ছা জানানো হবে তার কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করেছেন এবং ইতিমধ্যে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালিদ সাইফুল্লাহ সোহেল খানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা কর্মসূচী স্থান পরিদর্শন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দলের চেয়ারপারসন তারেক রহমান কিশোরগঞ্জে সফর রাখায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা আনন্দে উদ্বেলিত।
কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট জালাল উদ্দীন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে তাকে এক নজর দেখার জন্য হাজার হাজার মানুষ সেখানে উপস্থিত থাকবেন। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিয়েছি।’
সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান শেলী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসনের পুরো টিম কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে।’