প্রকাশ: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৩ পিএম (ভিজিট : ২)

X
সংগৃহীত ছবি
সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের রায়—দীর্ঘ এক স্বৈরশাসনের অবসানের প্রতীকী পরিণতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৪ বছরব্যাপী গৃহযুদ্ধ, লাখো প্রাণহানি এবং আন্তর্জাতিক বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা এই নেতা শেষ পর্যন্ত আদালতের কাঠগড়ায় দোষী সাব্যস্ত হলেন মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে ।
দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালতের এই রায় শুধু আসাদের বিরুদ্ধে নয়, বরং তার ঘনিষ্ঠ শক্তি কাঠামোর বিরুদ্ধেও প্রথম বিচারিক পদক্ষেপ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। আদালতে বিচারক বলেন, রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধের দায় সরাসরি আসাদের ওপর বর্তায় ।
স্বৈরশাসনের উত্তরাধিকার : বাশার আল আসাদ ছিলেন সিরিয়ার একটি দীর্ঘস্থায়ী পারিবারিক শাসনের দ্বিতীয় প্রজন্ম। তার পিতা হাফেজ আল আসাদ ১৯৭০ সালে ক্ষমতা দখল করে প্রায় তিন দশক দেশ শাসন করেন। সেই উত্তরাধিকারেই ২০০০ সালে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে রাষ্ট্রপতির আসনে বসেন বাশার ।
প্রথমদিকে তাকে ঘিরে কিছুটা আশাবাদ থাকলেও খুব দ্রুতই সেই আশা ভেঙে যায়। পিতার মতোই ভিন্নমত দমনে কঠোর অবস্থান নেন তিনি এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করেন।
আরব বসন্ত থেকে গৃহযুদ্ধ : ২০১১ সালে আরব বসন্তের ঢেউ যখন সিরিয়ায় পৌঁছায়, তখন গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভের মুখে সরকার নমনীয় না হয়ে বরং কঠোর দমন-পীড়ন চালায়। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর এই দমনই দ্রুত গৃহযুদ্ধে রূপ নেয় ।
পরবর্তী এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ নিহত হয় এবং কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আসাদের বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন, এমনকি রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে ।
ক্ষমতার পতন ও পলায়ন: ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদ্রোহীদের আকস্মিক অগ্রযাত্রায় আসাদ সরকারের পতন ঘটে। এরপর তিনি ও তার ভাই মাহের আসাদ রাশিয়ায় পালিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন ।
এই পতন মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় এবং দীর্ঘদিনের এক ক্ষমতাকাঠামোর অবসান ঘটায়।
বিতর্কিত শাসন ও বৈশ্বিক প্রভাব : আসাদের শাসনামল শুধু সিরিয়ার ভেতরেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশগুলো এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলো বারবার তার পদত্যাগ দাবি করলেও রাশিয়া ও ইরানের সমর্থনে তিনি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে ছিলেন ।