প্রকাশ: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫১ পিএম (ভিজিট : ২)

X
সংগৃহীত ছবি
২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে পরিচালিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে অন্তত ১৫৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও ২৪৩ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পেন্টাগনের একটি মূল্যায়নের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন এক কর্মকর্তা।
পেন্টাগনের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, বিগত বছরের তুলনায় ২০২৫ সালে বেসামরিক হতাহতের এই সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালে মার্কিন অভিযানে মাত্র দুই নাগরিক নিহত ও দুজন আহত হওয়ার তথ্য নথিবদ্ধ করা হয়েছিল।
মার্কিন কংগ্রেসে পেশ করা পেন্টাগনের মূল্যায়নে জানানো হয়, ২০২৫ সালের নথিবদ্ধ বেসামরিক হতাহতের সবকটি ঘটনাই মূলত ইয়েমেনে পরিচালিত তিনটি পৃথক মার্কিন হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের এপ্রিলে ইয়েমেনে চালানো ওই তিন অভিযানের বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এসব হামলায় বেসামরিক ক্ষতির আশঙ্কা ছিল ‘অত্যন্ত প্রবল’। তবে ইয়েমেনে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
সেন্টকম জানিয়েছে, বেসরকারি সংস্থাগুলোর দাবির প্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইয়েমেনে সংঘটিত আরও অন্তত ১৫টি ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলছে।
মূলত লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করেই ইয়েমেনে মার্কিন বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হয়েছিল।
তবে পেন্টাগনের প্রকাশিত এই নতুন পরিসংখ্যানে কিছু উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ক্যারিবীয় অঞ্চল ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক চোরাচালানবিরোধী নামে মার্কিন সাদার্ন কমান্ডের চালানো বিতর্কিত হামলায় ২০০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে থাকলেও সেগুলোকে এই বেসামরিক হতাহতের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। মার্কিন প্রশাসন ওই লক্ষ্যবস্তুগুলোকে ‘নার্কো-টেররিস্ট’ বা মাদক-সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।
মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ ও ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল’ ইতিমধ্যেই পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে চালানো সামরিক অভিযানের বৈধতা এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফলে পেন্টাগনের এই খণ্ডিত প্রতিবেদন প্রকাশ পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ও বিশ্বজুড়ে শক্তির অপব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।