প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৫ পিএম (ভিজিট : ২)

X
গ্যাস সংকট
গ্যাস নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ ও লাকসাম এলাকার বাসিন্দারা। বর্তমানে গ্যাস সংকট চরম আকার ধারন করেছে। সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাসা বাড়ি পরিবহন খাতসহ সাধারন মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চরম ভোগান্তি তৈরী হয়েছে। গ্যাস না পেয়ে পাম্প থেকে খালি হাতে ফেরার অভিযোগ করেছেন চালকরা। পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় চালকদের অনেকেই গাড়ি বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছেন।
বিড়ম্বনায় পড়া যাত্রীদের অধিকাংশই দ্বিগুন ভাড়া দিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সায় পার হতে দেখা গেছে। নিরুপায় হয়ে যাত্রীদের কেউ কেউ মোটর সাইকেলে রাইড শেয়ার করছেন।
জানা যায়, গত বেশ কয়েকদিন ধরে গ্যাসের কিছুটা সংকট দেখা দিলেও ১২ আগষ্ট বুধবার সন্ধ্যার পর লাকসাম মনোহরগঞ্জে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারন করেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন গ্যাস চালিত সিএনজি, পিকআপ ভ্যান ও বিভিন্ন পরিবহন মালিকরা। জেলার মনোহরগঞ্জ ও নাঙ্গলকোট উপজেলায় কোন গ্যাস পাম্প না থাকায় উভয় এলাকার গ্যাস চালিত পরিবহন চালকরা ছুটছেন প্রায় ২০ কি.মি দুরবর্তী লাকসাম উপজেলার এম.আর ফিলিং স্টেশনে। অনেকেই পাম্পে এসে জানতে পারছেন যে সেখানে গ্যাস নেই। ফলে বাধ্য হয়ে খালি হাতে ফিরছেন চালকরা। কেউ কেউ একটু গ্যাস পাওয়ার আশায় লাকসাম থেকে আরো ৮ কিঃমিঃ দুরে বিজরা পেট্রোল পাম্পে ভীড় করছেন, আবার কেউ যাচ্ছেন জেলা শহরে।
এদিকে বাসা বাড়িতে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় রান্নাসহ দৈনন্দিন কাজকর্মে চরম দুর্ভোগে পড়ার কথা জানিয়েছেন লাকসাম পৌর এলাকার বাসিন্দারা।
মনোহরগঞ্জ উপজেলার সিএনজি চালক জহির উদ্দিন জানান, মনোহরগঞ্জ উপজেলা সদরের ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে কোন পেট্রোল পাম্প নেই। পাশ্ববর্তী লাকসাম উপজেলায় এমআর ফিলিং স্টেশনে গিয়ে চাহিদানুযায়ী গ্যাস ভর্তি করে নিয়ে আসেন। গত দুদিন ধরে সেখানেও মিলছে না গ্যাস। হতাশ হয়ে সেখান থেকেও খালি হাতে ফিরে আসার কথা জানান তিনি। গ্যাস না পেয়ে সিএনজি চালানো আপাতত বন্ধ রেখেছেন। পাম্প থেকে ফিরে অনেকেই এমন অভিযোগ করেছেন।
একই অভিযোগ করেন লাকসাম উপজেলার এমআর ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নিতে আসা নাঙ্গলকোট-লাকসাম রুটের সিএনজি চালক নাছির উদ্দিন। তিনি বলেন আশপাশের এলাকায় আর কোন গ্যাস পাম্প না থাকায় গ্যাস নিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন। এখানে গ্যাস না পেয়ে ছুটে যান লাকসাম থেকে আরো প্রায় ৮ কিঃমিঃ দুরে বিজরা বাজারের একটি গ্যাস পাম্পে। সেখানে গ্যাস পাবেন এমন আশ্বাস মিললে অন্ততঃ দুই শতাধিক ছোট বড় পরিবহনের পিছে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে অবশেষে গ্যাস নিয়ে গন্তব্যে ফেরার কথা জানান তিনি। ক্ষোভ প্রকাশ করে এ সিএনজি চালক বলেন একটু গ্যাস পেলেও পথেই ফুরিয়ে যায়, সাচ্ছন্দে গাড়ি চালাতে পারেন না।
লাকসাম পৌরসভার বেশ কয়েকজন বাসিন্দার সাথে কথা হলে তারা বলেন, গত দুই দিন ধরে গ্যাস সংকটে ভূগছেন। লাইনে গ্যাস না থাকায় আপাতত লাকড়ীর চুলা কিনে প্রয়োজনীয় কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন কেউ কেউ বোতলজাতকৃত সিলিন্ডারের উপর আস্থা রাখছেন। আবার কেউ কেউ হোটেল থেকে কিনছেন প্রয়োজনীয় খাবার। গ্যাস সরবরাহ না থাকায় নিদারুন ভোগান্তীর কথা উল্লেথ করে তিনি শিগগিরই গ্যাস সরবরাহের দাবী জানান ভূক্তভোগী বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে মেসার্স এম.আর ফিলিং স্টেশনের ম্যানাজার অমূল্য চন্দ্র দাস এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন ১২ আগষ্ট বুধবার বিকাল ৪টা থেকে লাইনে গ্যাস সাপ্লাই বন্ধ রয়েছে। লাইনে গ্যাস না থাকায় সিএনজি কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখার কথা জানান তিনি। গ্যাস প্রাপ্তি সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের সরবরাহের কথা জানান তিনি।