প্রকাশ: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৬ পিএম (ভিজিট : ২)

X
সংগৃহীত ছবি
ভারতের উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় একটি নির্মাণাধীন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে ধসের ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত ১৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এখনো একজন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিটিআই জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চামোলি জেলার মায়াপুর তহসিলের পিপালকোটি এলাকায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ খননের কাজ চলছিল। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে হঠাৎ সেখানে ধস নামে। এরপর পানি ও কাদার প্রবল স্রোতে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভেতরে থাকা অন্তত ২২ জন শ্রমিক আটকা পড়েন।
দুর্ঘটনার পর বৃহস্পতিবার রাত থেকেই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। এ কাজে উত্তরাখণ্ড পুলিশ, রাজ্য সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ), কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ), অন্যান্য উদ্ধারকারী দল এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।
শুক্রবার সকাল পর্যন্ত আটকে পড়া ২২ শ্রমিকের মধ্যে ২১ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ১৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে আরও একজন শ্রমিকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এদিকে শুক্রবার ভোরে রুদ্রপ্রয়াগ থেকে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) একটি দল দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়। ধসে পড়া অংশ সরিয়ে সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রবেশের জন্য যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। পুরো কার্যক্রম তদারকি করছেন চামোলির জেলাশাসক গৌরব কুমার। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিংহ ধামী। দ্রুত উদ্ধারকাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সব উদ্ধারকারী দলের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
উত্তরাখণ্ডের তেহরি হাইড্রো ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (টিএইচডিসি)-এর একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ওই সুড়ঙ্গটি নির্মাণ করা হচ্ছিল। সুড়ঙ্গ খননের কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল হিন্দুস্তান কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (এইচসিসি)-কে।
উত্তরাখণ্ডে সুড়ঙ্গ ধসের ঘটনা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। ২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর উত্তরকাশীর সিল্কিয়ারা-বারকোট সুড়ঙ্গের নির্মাণাধীন অংশে ধস নেমে ৪১ জন শ্রমিক ভেতরে আটকা পড়েছিলেন। দীর্ঘ ১৭ দিনের উদ্ধার প্রচেষ্টার পর ২৮ নভেম্বর ‘ইঁদুরের গর্ত’ বা র্যাট-হোল মাইনিং পদ্ধতিতে তাদের সবাইকে উদ্ধার করা হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড়েও একটি সুড়ঙ্গ দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে ধৌলিগঙ্গা বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সুড়ঙ্গের মুখে ধস নেমে প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যায়। এতে জাতীয় জলবিদ্যুৎ কর্পোরেশন লিমিটেডের (এনএইচপিসি) ১৯ জন কর্মী ভেতরে আটকা পড়েছিলেন। পরে অবশ্য তাদের সবাইকে নিরাপদে বাইরে বের করে আনা সম্ভব হয়।