
X
ফাইল ছবি
এই আছে এই নাই। এ ভাবেই দিনরাতে ক্ষনে ক্ষনে চলছে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার সর্বত্রই বিদ্যুতের লুকোচুরি খেলা। আর অবস্থায় জনজীবন হয়ে উঠছে দুর্বিসহ। এ উপজেলার ১১ ইউনিয়নসহ আশেপাশের গ্রামগজ্ঞে দিবারাত্রি বেশির ভাগ সময়েই বিদ্যুৎ থাকে না বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগি গ্রাহকদের অভিযোগ, দিনেরাতে গরমের তাপমাত্রা যতই বাড়ে এর সাথে তাল মিলিয়ে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ লোডশেডিংয়ের মাত্রাও যেন সেভাবেই বাড়িয়ে দেয়। এহেন অনিয়ম অব্যস্থাপনা তারা নিয়মে পরিণত করে ফেলছেন।
বিশেষ করে গভীররাতে লোডডিংয়ের মাত্রা যেন আরো প্রকট আকার ধারন করে। মাঝেমধ্যেই নানা অজুহাতে সারাদিন সারারাত ধরে বিদ্যুৎ থাকে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং চলাকালীন সময় গ্রাহকেরা বিদ্যুৎ কখন পাবে তা জানার জন্য স্থানীয় পল্লী বিদ্যুতের অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জগণের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে।কিন্তু এসময় গ্রাহকদের ফোনের বিরক্তিবোধ মনে করে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সেবায় মোবাইল ফোনটি তারা ইচ্ছাকৃত ভাবে বন্ধ রাখেন বলে গ্রাহকদের মধ্যে এমন অভিযোগও উঠছে।
নলডাঙ্গা ইউপির সাবেক সদস্য ও গালামাল ব্যবসায়ী হাবিজার রহমান পাটোয়ারী জানান,ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারনে সরকারের শতভাগ বিদ্যুতায়ন জনসাধারনের জন্য তেমন কোন কাজে আসছে না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে বিদ্যুৎ একেবারে লাপাত্তা হয়ে যায়। এসময় ব্যবসায়ীদের বেচাকেনায় চরম বিপাকে পড়তে হয়। বিদ্যুৎ না থাকলে বেচাকেনা অনেকটা কমে যায়। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলতে থাকায় ব্যবসায়ীদের ব্যবসায় মন্দাভাব দেখা দিয়েছে।
ওই এলাকার ছাত্তার মিয়া,তাজরুল ইসলামসহ অনেক গ্রাহক বলেন,রাতের বেলায় বেশির ভাগ সময়ে বিদুৎ না থাকায় এসব এলাকায় প্রায়ই ছিঁচকে চুরি সিঁদেল চুরিসহ নানা ধরনের ছোটখাট অপরাধমূলক ঘটনা প্রায়ই সংঘটিত হচ্ছে।
এছাড়া দিনে অধিক সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এ অঞ্চলের ছোট বড় গড়ে উঠা মিল কল কারখানা প্রায সময়ই বন্ধ থাকে।
ফলে এসব কল কারখানায় নিয়োজিত শ্রমিকদের দিনের বেশির ভাগ সময় অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে। বিদ্যুতের অভাবে তারা কোন কাজ করতে পারেন না। এ কারনে খেটে খাওয়া শ্রমিকদের উপার্জন একেবারে কমে যাওয়ায় তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে অতিকষ্টে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে।
এ এলাকার সমিল ও চাউল কল শ্রমিক আইয়ুব আলী, মিঠু মিয়া, আশরাফুল ও সুবাসী রানী জানান,কারেন থাকলে মিল চলে। এসময় দুইটা টেকা কামাই হয়, কারেন্ট না থাকলে মিল চলে না।সেদিন সারাদিন বসি বসি থাকা লাগে। কামাই হলে পেটে ভাত যায়। আর কামাই না থাকলে খায়া না খায়া দিন যায়।
নলডাঙ্গা ইউনিয়নের জাকিরুল ইসলাম নামের নামের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, এমনিতে দিনরাতে অসহনীয় গরম।তারপরে আবার সন্ধ্যা থেকে গভীররাত পর্যন্ত চলতে থাকে বিদ্যুতের তেলেসমাতি।এতে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া চরমভাবে বিঘ্ন ঘটছে।
শুধু তাই নয় প্রচন্ড গরমে চলমান ডিগ্রী ও এইচ,এস,সি পরীক্ষায় অংশগ্রহনকারী পরীক্ষার্থীরা বিদ্যমান লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে তাদের লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটছে।
শফিকুল নামের আরেক গ্রাহক বলেন, দিনের বেলা যাই হোক, কিন্তু রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের নিয়ে অসহনীয় গরমে ঘুমানো খুবই দুস্কর হয়ে পড়ে। নলডাঙ্গা বন্দরের ভুট্রু মিয়া নামের এক গ্রাহক ক্ষুব্ধতার সাথে বলেন, ঘনঘন লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি ভোল্টেজ ওঠানামায় অনেকের ফ্রিজ, টিভি, ফ্যান, সেচ পাম্পসহ বিভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্র বিকল হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাভুক্ত সাদুল্লাপুর জোনের ডিজিএম নূরুল শামসুল হুদা বলেন, লোডশেডিং একটা জাতীয় সমস্যা। জ্বালানি সংকটের কারণে চাহিদার চেয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ অপ্রতুল হওয়ায় বিরাজমান সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এক্ষেত্রে পল্লী বিদ্যুতের কিছু করার নেই।
এদিকে বিদ্যুতের বেহাল পরিস্থিতি নিয়ে এ অঞ্চলের গ্রাহক সাধারনের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।এমতবস্থায় ভুক্তভোগিরা অনতিবিলম্বে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট বড় কর্তাবাবুদের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।