প্রকাশ: রোববার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০৮ পিএম (ভিজিট : ২)

X
ডাঃ আলী আকবর
দশমিনার মানুষের প্রিয় চিকিৎসক ও ‘গরিবের ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিত ডাঃ আলী আকবর আর নেই।
রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ৬টার দিকে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
তাঁর মৃত্যুতে দশমিনা উপজেলাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একজন চিকিৎসক হিসেবে মানুষের সেবা করার পাশাপাশি শিক্ষা ও সমাজকল্যাণে তাঁর অবদান এলাকাবাসীর কাছে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের চিকিৎসা দিতে তিনি কখনো নির্দিষ্ট ভিজিট দাবি করতেন না। রোগীরা সামর্থ্য অনুযায়ী যা দিতেন, সেটিই গ্রহণ করতেন। অর্থের প্রতি মোহ না রেখে চিকিৎসা পেশা থেকে অর্জিত অর্থের একটি বড় অংশ তিনি শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে ব্যয় করতেন।
এ কারণেই সাধারণ মানুষের কাছে তিনি হয়ে উঠেছিলেন ‘গরিবের ডাক্তার’ভালোবাসা ও আস্থার এক পরিচিত নাম।উপজেলায় নারী শিক্ষার প্রসারে ২০০৯ সালে স্ত্রী সামছুরন্নাহার খানম ডলির সহযোগিতায় দশমিনা উপজেলা সদরে প্রতিষ্ঠা করেন ডাঃ ডলি আকবর মহিলা কলেজ। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা নির্মাণসহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
রোববার সকালে দশমিনা উপজেলা সদরের জেলা পরিষদ ডাকবাংলো-সংলগ্ন নিজ বাসভবনে অসুস্থ হয়ে পড়েন ডাঃ আলী আকবর। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা তাঁকে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ নিজ বাসভবনে নিয়ে আসা হয়।
তাঁর মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই চরাঞ্চলসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাধারণ মানুষ শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেখতে তাঁর বাসভবনে ছুটে আসেন।মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
রোববার বিকেল ৪টায় দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে তাঁর প্রথম জানাজা এবং বিকেল ৫টায় আলীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক গোরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
মানুষের সেবায় নিবেদিত এই চিকিৎসক হয়তো আজ নেই, কিন্তু অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাঁর মানবিকতা এবং শিক্ষা বিস্তারে রেখে যাওয়া অবদান দশমিনার মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।