
X
ছবি : প্রতিনিধি
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বাজেট অ্যাসেসমেন্ট টিমের নিরীক্ষায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের (বেরোবি) আর্থিক কার্যক্রমে প্রায় ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকার অনিয়ম ও আর্থিক ক্ষতির তথ্য উঠে এসেছে।
গত বছরের নভেম্বরে পরিচালিত নিরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করে এসব অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনের সংযোজনী-৩-এ মোট ২৯টি পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট টাকার অঙ্কে ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সাতটি খাতে প্রায় ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকার অনিয়ম হয়েছে বলে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অগ্রিমের ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা সমন্বয় হয়নিঃ
নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিভিন্ন কাজের জন্য অগ্রিম টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই টাকার যথাযথ হিসাব বা সমন্বয় এখনো করা হয়নি। ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত এমন অসমন্বিত অগ্রিমের পরিমাণ ১ কোঠি ৩২ লাখ টাকা।
বাসাভাড়া কর্তনে ৭৫ লাখ টাকার ক্ষতিঃ
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টারে বসবাসকারী শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বাসাভাড়া কর্তনের ক্ষেত্রেও অনিয়ম পেয়েছে ইউজিসির নিরীক্ষা দল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোয়ার্টারে বসবাসকারী শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে স্কয়ার ফিটের হিসাবে বাসাভাড়া কর্তন করা হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৭৫ লাখ ২০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে অডিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
অতিরিক্ত দায়িত্বভাতা দেওয়ায় ক্ষতি ১০ লাখ টাকাঃ
সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি দায়িত্বভাতা দেওয়ার বিষয়টিও অডিটে ধরা পড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য শিক্ষকদের নির্ধারিত ১ হাজার ৫০০ টাকার পরিবর্তে আড়াই হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দায়িত্বভাতা দেওয়া হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে।
এ ছাড়া এক শিক্ষককে নিয়মবহির্ভূতভাবে ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার মাধ্যমে ৬ লাখ ৭২ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের নামে শিক্ষার্থীদের নিকট অবৈধ ফি আদায়ঃ
প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সেন্টার ফর ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের নামে ৫০০ টাকা করে ফি আদায়ের বিষয়টিও অডিটে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ খাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রায় ৭ লাখ টাকা আদায় করছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ নামে কোনো ফি আদায় করা যাবে না বলে ইউজিসির নির্দেশনা দিয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও সুপারিশ করা হয়েছে।
বাংলা বিভাগে অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগে আর্থিক ক্ষতিঃ
বাংলা বিভাগে নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত দুজন প্রভাষক নিয়োগের বিষয়টিও অডিটে ধরা পড়েছে। এ দুই শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বছরে প্রায় ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি না করেই গ্র্যাচুইটিঃ
অডিট আপত্তির টাকা যথাযথভাবে কেটে না রেখে আনুতোষিক বা গ্র্যাচুইটি পরিশোধের বিষয়টিও নিরীক্ষায় ধরা পড়েছে। এ কারণে ৯০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, এ বিষয়ে তুমি অর্থ ও হিসাব দপ্তরে যোগাযোগ করো।পরবর্তীতে অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ শাহজাহানকে ফোন দেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।