ভূমধ্যসাগরে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু, এখনো নিখোঁজ সুনামগঞ্জের পাঁচ যুবক

শান্তিগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

খাবার ও পানি ছাড়া ভূমধ্যসাগরে প্রায় ১১ দিন ভেসে থাকার পর গ্রিসগামী একটি রাবারের নৌকায় অন্তত ১১ জনের

2026-08-17T12:04:39+00:00
2026-08-17T12:04:39+00:00
সোমবার ১৭ আগস্ট ২০২৬ ২ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার ১৭ আগস্ট ২০২৬
   
খাবার ও পানি ছাড়া ১১ দিন:
ভূমধ্যসাগরে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু, এখনো নিখোঁজ সুনামগঞ্জের পাঁচ যুবক
শান্তিগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৪ পিএম   (ভিজিট : ০)
ভূমধ্যসাগরে এখনো নিখোঁজ সুনামগঞ্জের পাঁচ যুবক
X

ভূমধ্যসাগরে এখনো নিখোঁজ সুনামগঞ্জের পাঁচ যুবক

খাবার ও পানি ছাড়া ভূমধ্যসাগরে প্রায় ১১ দিন ভেসে থাকার পর গ্রিসগামী একটি রাবারের নৌকায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। 

নিহতদের মধ্যে নয়জন বাংলাদেশি বলে জানিয়েছেন বেঁচে যাওয়া সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের আবদুল করিম। এ ঘটনায় শান্তিগঞ্জের পাঁচ যুবকের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে মিশরে চিকিৎসাধীন আব্দুল করিমের বরাতে কায়রোতে বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) মো. জাকির হোসেনও গণমাধ্যমকে মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত ৩ আগস্ট লিবিয়া থেকে ৪২ জন যাত্রী নিয়ে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করে নৌকাটি। কিছুদূর যাওয়ার পর নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়।  শেষ হয়ে যায় জ্বালানি। এরপর প্রায় ১১ দিন ভূমধ্যসাগরে ভাসতে থাকার পর গত ১৩ আগস্ট মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছান যাত্রীরা।

আবদুল করিমের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে ৩৮ জন বাংলাদেশি ও চারজন সুদানের নাগরিক ছিলেন। দীর্ঘ সময় খাবার ও পানি ছাড়া সাগরে থাকার কারণে প্রচণ্ড গরম ও পানিশূন্যতায় ১১ জন মারা যান। তাদের মরদেহ সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন বেঁচে থাকা যাত্রীরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সে ভিডিওতে আবদুল করিম বলেন, ‘গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রার পর নৌকার ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা আর এগোতে পারেননি। নৌকায় পর্যাপ্ত খাবার ও পানি ছিল না। তার চোখের সামনেই নয়জন বাংলাদেশি মারা যান। পরে আরও দুজনের মৃত্যু হয়। দীর্ঘ সময় সাগরে থাকার কারণে বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের শারীরিক অবস্থাও গুরুতর হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় লবণাক্ত পানিতে থাকার কারণে তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশ পচতে শুরু করেছে এবং দুর্গন্ধ বের হচ্ছে বলেও জানান করিম। 

তিনি আরও জানান, রাবারের নৌকাটিতে সর্বোচ্চ ২৫ জন যাত্রী বহনের সক্ষমতা ছিল। অথচ এতে ৪২ জনকে তোলা হয়। নৌকাটিতে ছিল মাত্র একটি ইঞ্জিন।

জাকির হোসেন নামে এক ব্যক্তি জানান, মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে স্থানীয় লোকজন নৌকাটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে প্রায় ২৯ থেকে ৩০ জনকে উদ্ধার করা হয়। তাদের অনেকেই অচেতন ছিলেন। পরে তাদের দুটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়।

এদিকে শান্তিগঞ্জের স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, নিখোঁজ পাঁচ যুবকের মধ্যে রয়েছেন পাগলা শত্রুমর্দান গ্রামের হৃদয় পাল, চিকরকান্দি গ্রামের এনামুল খান, রিপন মিয়া ও মামুন খান এবং রানসি গ্রামের মো. তালহা।

হৃদয়ের চাচা কানন পাল বলেন, গত ৩১ জুলাই সর্বশেষ হৃদয়ের সঙ্গে তার কথা হয়। তখন হৃদয় জানিয়েছিলেন, ৩ আগস্ট গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। কানন পাল বলেন, ওই দিন দু’টি নৌকা ছেড়ে যায়। পরে প্রথম নৌকার একজন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, হৃদয় দ্বিতীয় নৌকায় ছিলেন। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা তার কোনো সন্ধান পাননি।

তবে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার বলেন, ‘এ ধরনের কোনো তথ্য আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত নেই এবং তাদের পরিবার থেকে বিষয়টি আমাদের অবগত করা হয়নি। এরপরও ভিডিও ফুটেজের বক্তব্যটি সঠিক কিনা আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।’

প্রসঙ্গত, এর আগে গত মার্চেও লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করা একটি নৌকায় অন্তত ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছিল। নিহতদের মধ্যে ১২ জনই সুনামগঞ্জের বাসিন্দা ছিলেন।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy