
X
ছবি : প্রতিনিধি
পূর্বে বি. বারিয়ার বানচরামপুর, উত্তরে কুমিল্লার হোমনা, নরসিংদী সদর ও মাধবড়ি এলাকা, পশ্চিমে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার এবং দক্ষিণে প্রবাহিত সুবিশাল মেঘনা নদী। এরই মধ্যে অবস্থিত আড়াইহাজার উপজেলার একটি প্রত্যন্ত চর এলাকা করাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন।পাশাপাশি খাগকান্দা এবং বিশনন্দী ইউনিয়নের ও কিছু অংশ রয়েছে এর আওতায়।
কালাপাহাড়িয়া, বিশনন্দী ও খাগকান্দা ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষই পেশায় জেলে ও কৃষক। যারা জেলে, তারা সকালে দলবদ্ধভাবে নৌকা ও জাল নিয়ে নদী থেকে মাছ ধরতে বের হন। নদীতে মাছ ধরে বিভিন্ন বাজার ও পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে রাতে বাড়ি ফেরেন। তবে সম্প্রতি মেঘনায় কেন যেন তেমন মাছ পাওয়া যাচ্ছেনা। জেলেরা জানান, ভরা মৌসুমেও মেঘনায় আগের মত মাছ পাওয়া যাচ্ছেনা। জাল ফেলে রেখে কবেলই মাছের অপে ক্ষা। কিন্তু অনেক সময় খড়া জাল টান দিলে জাল শুণ্যই উঠে আসে।
যারা কৃষিকাজ করেন, তারা চরের জমিতেই কাজ করেন। এই অঞ্চলের প্রধান ফসল হলো ধান, পাট, গম, ভুট্টা, শিম, কাসাভা, সরিষা ইত্যাদি।
এই ইউনিয়নটি মেঘনার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত। ইতোমধ্যে এই ইউনিয়নের চারলক্ষিপুর নামক একটি গ্রাম মেঘনার ভাঙনে ডুবে গেছে। সেই গ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল, যা মেঘনার জলে ডুবে গেছে। আরও নয়টি গ্রামও এই ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যদিও এই এলাকাটি বেশ কয়েকজন বিখ্যাত শিক্ষিত ব্যক্তির জন্মস্থান, তবুও এখানকার সাক্ষরতার হার খুবই কম। যেহেতু ছেলেদের কৈশোর থেকেই বাবা-দাদার সাথে নদীতে নৌকা নিয়ে জাল ফেলে অথবা খড়া জাল দিয়ে মাছ ধরতে বা কৃষিকাজে কাজ করতে হয়, তাই তাদের শিক্ষা দীক্ষা খুব একটা ভালো হয় না। তবে, যারা পড়াশোনার সুযোগ পায়, তারা ভালো পড়াশোনা করে সেখানেই থেকে যাচ্ছে।
কালাপাহাড়িয়া এলাকায় একটি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং একটি পুলিশি তদন্ত কেন্দ্র রয়েছে। তবে, এলাকাটি মেঘনা অববাহিকায় অবস্থিত এবং বৃহত্তর মেঘনা সব দিকে প্রবাহিত হওয়ায় এটি উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। তাই সেখানকার অপরাধের হারও তুলনামূলকভাবে বেশি।
এলাকার একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে মুহিতুল ইসলাম হিরু বলেন, নদী দ্বারা পরিবেষ্টিত হওয়ায় কালাপাহারিয়ার বাসিন্দারা মাছ ধরা এবং কৃষি কাজে নিয়োজিত। তকে নদীতে এখন আর আগের মত মাছ পাওয়া যাচ্ছেনা। এলাকার অনেক লোক সরকারি ও বেসরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বাড়ি থেকে বের হয়ে দূরে কোথাও যাওয়ার জন্য নৌকা ছাড়া আর কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। তবে, এলাকার মানুষ খুব সরল হওয়ায় এ নিয়ে কারো কোনো অভিযোগ নেই।
আড়াইহাজার থানার ওসি মো. সবজেল হোসেন বলেন, কালাপাহারিয়ার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সেখানে একটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য পুলিশ সেখানে সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।
কালাপাহাড়িয়া উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ইনচার্জ বেনজির আহমেদ বলেন, উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির কারণে কালাপাহারিয়ার বাসিন্দারা চিকিৎসা ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা পাচ্ছেন।