প্রকাশ: বুধবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ১১:২৭ এএম আপডেট: ০২.০২.২০২২ ৪:২৩ পিএম (ভিজিট : ৩৩৬)

X
পাহাড় ও সমুদ্রের অদ্ভুত মিতালি, মায়াময় পুরনো শহর আর আলোর রোশনাইয়ে উজ্জ্বল নতুন শহরের হাতছানি- সবকিছু মিলে এক অপরূপ সৌন্দর্যের দেশ ভিয়েতনাম। এশিয়ার সবচেয়ে সুন্দর ও ভ্রমণের জন্য এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় একটি দেশ। ইদানীং বাংলাদেশ থেকেও প্রচুর পর্যটক ভিয়েতনাম ভ্রমণ করছে। প্রকৃতি সব কিছুর জন্য পর্যটকের নিকট আকর্ষনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই শহরটি। ভিয়েতনামের জনপ্রিয় ট্রাভেল ডেসটিনেশন গুলো তাই পর্যটকদের আনাগোনায় মুখর থাকে সারাবছর। ভিয়েতনা আকর্ষণীয় ভরপুর ভিয়েতনামের অন্যতম একটি আকর্ষণীয় জায়গা হয়ে উঠেছে গোল্ডেন ব্রিজ (Golden Bridge)।
১৯১৯ সালে ভিয়েতনাম শাসনকারী ফরাসিদের হাতে সেতু প্রথম নির্মিত হয়েছিল। ৯৯ বছর আগে সেতুটি নির্মাণ করে ফ্রান্সের একটি সংস্থা। পরে নতুন করে গত বছরের জুনে এর উদ্বোধন করা হয়। স্বর্ণের মতো রং। তাই এর নামকরন করা হয় ‘গোল্ডেন ব্রিজ’। সম্প্রতি ভিয়েতনামের পর্যটকদের আকর্ষনের জন্য ২ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এটি নির্মিত। ব্রিজটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪,৬০০ ফিট উপরে অবস্থিত। পুরো বিশ্বের বিস্ময় পাহাড়ের গায়ে তৈরি এ সেতু ৪৯০ ফুট দীর্ঘ। ব্রিজটির আর্কিটেকচার মুগ্ধ করেছে সবাইকে।
ভিয়েতনামের অনেকটাই দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের এক শহর ডানাং। এই ডানাং এ গোল্ডেন ব্রিজ অবস্থিত। ডানাং এর 'বা না হিলস'-এর ওপরে তৈরি করা হয়েছে এই অভিনব সেতু। নাম গোল্ডেন ব্রিজ হলেও সেতুটি সোনার নয়। তবে সোনালী রঙের ছড়াছড়ি পুরো সেতুতে। তাই নাম দেয়া হয়েছে গোল্ডেন ব্রিজ। তবে, এই সেতুটির বিশেষত্ব হলো এর 'হ্যান্ডস অফ গড' বা 'ঈশ্বরের হাত'। পাহাড়ি এই শহরে গাছপালা আর পাথুরে ‘বা না হিলস’ ফুঁড়ে বেরিয়ে এসেছে এই 'ঈশ্বরের হাত'। দুই হাত তুলে ধরেছে ধনুকের মতো বাঁকানো সোনালি রঙের এই সেতু। অনন্য এই স্থাপত্যশৈলী এই সেতুটিকে করেছে অপরূপ সৌন্দর্যের এক নিদর্শন।‘গোল্ডেন ব্রিজ’ নামে পরিচিতি পেলেও স্থানীয়দের কাছে সেতুটি ‘কাউ ভ্যাং’ নামে পরিচিত। সেতুর ওপর দিয়ে হাঁটছেন পর্যটনবিলাসী মানুষ।
উদ্বোধনের পর থেকে দর্শনার্থীতে সরগরম হয়ে আছে গোল্ডেন ব্রিজ। সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এই ব্রিজটি । মূলত এক বছরের মধ্যে ভিয়েতনামের পর্যটনের সংখ্যা ১৫-১৭ মিলিয়ন করার লক্ষ্যে তাদের সরকার কাজ করে যাচ্ছে। পর্যটকদের আকর্ষনের জন্য তারা এই ব্রিজটি তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে এর সুফলও তারা পেয়েছে । জরিপে দেখা যায় ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে পর্যটকের পরিমান শতকরায় ২৯.৭ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর ১ কোটি ৩০ লাখ বিদেশি পর্যটক এসেছিল সেতুটি দেখতে। প্রাকৃতিক দৃশ্য নিয়ে কাজ করা টিএ কর্পোরেশন সেতুটি নির্মানে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। গোল্ডেন ব্রিজ ডিজাইনার অন্হা বলেন, তিনি ইতিমধ্যেই অন্য একটি প্রকল্প শুরু করেছেন আর তা হল ‘সিলভার ব্রিজ’ তৈরি করা। যে ব্রিজটি গোল্ডেন ব্রিজের সাথে সংযুক্ত হবে। ব্যতিক্রমী স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন এই ব্রিজটি তার অভিনব ডিজাইন আর সৌন্দর্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।