কোরবানির পর আমল ও করণীয়

বুলেটিন ডেস্ক

ধর্ম

জিলহজ মাসের প্রথম ১০-১২ দিনের মধ্যে হজ, ঈদুল আজহা, কোরবানির মতো মহান ইবাদত অনুষ্ঠিত হয়। এসব ইবাদতে মানুষ

2023-07-03T10:00:09+00:00
2023-07-03T10:00:09+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
কোরবানির পর আমল ও করণীয়
বুলেটিন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৩ জুলাই, ২০২৩, ১০:০০ এএম   (ভিজিট : ১৬৯)
X


জিলহজ মাসের প্রথম ১০-১২ দিনের মধ্যে হজ, ঈদুল আজহা, কোরবানির মতো মহান ইবাদত অনুষ্ঠিত হয়। এসব ইবাদতে মানুষ মহান আল্লাহর একত্ববাদের ঘোষণায় উজ্জীবিত থাকে। সময় অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের এ চেতনা কমতে থাকে। এ জন্য কোরবানি পরবর্তী সময়ে এ চেতনা ধরে রাখতে তাকবির, তালবিয়া, দোয়া ও জিকির-আজকের নিয়োজিত থাকা জরুরি।

হজ পালনকারীরা, কোরবানি দাতা ও সাধারণ মুসলিম তালবিয়া ও তাকবিরে তাশরিক পড়েন। ঈদুল আজহা ও কোরবানি শেষ হলেও এ ধারা অব্যাহত থাকা জরুরি। আর তাতে মানুষের মনে মহান রবের একত্ববাদের গুণগান চলতে থাকবে।

>>তাকবিরে তাশরিক পড়া
মুমিন মুসলমান ১৩ জিলহজ (এবার তা ২ জুলাই আসর) পর্যন্ত তাওহিদের এ ঘোষণা দিতে থাকে-
اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَ اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر وَ للهِ الْحَمْد
উচ্চারণ : ’আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার; ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’
অর্থ : ’আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান; আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান; সব প্রশংসা মহান আল্লাহ জন্য।’

>>জিকির-আজকার করা
৯ জিলহজ থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর একবার এ তাকবির পড়া মুমিন মুসলমানের ওপর ওয়াজিব বা আবশ্যক। তবে হাদিসে পাকে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিলহজ মাসে বেশি বেশি জিকির-আজকার করার তাগিদ দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে-
‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, জিলহজ মাসের প্রথম দশকে তোমরা বেশি বেশি তাকবির (আল্লাহু আকবার), তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ও তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ) বলবে।’ (মুসনাদে আহমাদ)

>>তালবিয়া পড়া
হজে অংশগ্রহণকারীরা তালবিয়া পড়ে মহান রবের দরবারে উপস্থিত হওয়ার কথা জানাবেন। আপন মনে হজের তালবিয়া পড়বেন-
لَبَّيْكَ اَللّهُمَّ لَبَّيْكَ
لَبَّيْكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ
اِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ
لاَ شَرِيْكَ لَكَ

তালবিয়ার উচ্চারণ
> লাব্বাইকা আল্লা-হুম্মা লাব্বাইক,
> লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক,
> ইন্নাল হামদা ওয়ান্‌নিমাতা লাকা ওয়ালমুল্‌ক,
> লা শারিকা লাক।

তালবিয়ার অর্থ
> আমি হাজির, হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত!
> আপনার ডাকে সাড়া দিতে আমি হাজির। আপনার কোনো অংশীদার নেই।
> নিঃসন্দেহে সব প্রশংসা ও সম্পদরাজি তথা নেয়ামত আপনার এবং একচ্ছত্র আধিপত্যও আপনার।
> আপনার কোনো অংশীদার নেই।

বেশি বেশি দোয়া পড়া
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ : রাব্বানা আতিনা ফিদ্‌দুনিয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখেরাতি হাসানাতাও ওয়া ক্বিনা আজাবান নার।’
অর্থ : ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান কর এবং পরকালেও কল্যাণ দান কর। আর আমাদেরকে দোজখের যন্ত্রণাদায়ক আগুণ থেকে রক্ষা কর।’ (সুরা বাকারা: আয়াত ২০১)

জিলহজ মাস শুরু হওয়ার পর থেকে ইয়াওমে আরাফা (হজ), ঈদ ও কোরবানি শেষ হলেও চলতে থাকে তাকবিরে তাশরিক, জিকির-আজকার, তালবিয়া ও দোয়া। যা মুসলিম উম্মাহর ঈমান ও আমলে উজ্জীবিত হওয়ারই অংশ। যে যতবেশি এ আমলগুলো করবে, তার ঈমানি চেতনা ও মূল্যবোধে ততবেশি অগ্রসহর হবে।

মুমিন মুসলমানের উচিত, জিলহজ মাসের বাকি দিনগুলোও তাকবির, জিকির-আজকার, তালবিয়া ও দোয়া পড়ার মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে একত্ববাদের চেতনাকে আরও বেশি উজ্জীবিত রাখা। শিরক ও কুফরের সব চিহ্ন থেকে পরিচ্ছন্ন থাকা। ব্যক্তি পরিবার সমাজ তথা সর্বস্তরে শিরকমুক্ত চেতনায় তাকবির ও তালবিয়ার আমল বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিজেদের উজ্জীবিত রাখা ঈমানের একান্ত দাবি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জিলহজ মাসের এ দিনগুলোতে তাকবির-তালবিয়া পাঠের চেতনায় মজবুত ঈমানের অধিকারী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

-বাবু/এ.এস
 




  বিষয়:   আমল  করণীয় 



Loading...
Loading...


ধর্ম এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy