
X
বাংলাদেশের ইনবাউন্ড ও আউটবাউন্ড চিকিৎসা পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন (বিএমটিএ) ঢাকায় প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মেডিকেল ট্যুরিজম কনফারেন্স আয়োজন করেছে।
আজ (৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ধানমন্ডির ড্যাফোডিল প্লাজায় অনুষ্ঠিত এই কনফারেন্সে দেশের শীর্ষস্থানীয় হাসপাতাল, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও পর্যটন শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অংশ নেন। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞরাও এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন।
কনফারেন্সের মূল উদ্দেশ্য
বাংলাদেশের চিকিৎসা পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপ্রতিষ্ঠিত করা এবং দেশি-বিদেশি অংশীদারদের মধ্যে নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ তৈরি করাই এই কনফারেন্সের প্রধান লক্ষ্য। বাংলাদেশকে বিশ্বমানের চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা এবং বিদেশি রোগীদের আকৃষ্ট করার কৌশল নিয়েও এ অনুষ্ঠানে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
কনফারেন্সের বিশেষ আকর্ষণ
✔ বিশেষ সেশন: ক্যান্সার ও বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার আধুনিক অগ্রগতি নিয়ে বিশদ আলোচনা।
✔ পর্যালোচনা: মেডিকেল ট্যুরিজমের বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও উন্নয়ন নিয়ে বিশ্লেষণ।
✔ বিশেষজ্ঞ মতামত: দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মূল্যবান পরামর্শ।
✔ নেটওয়ার্কিং: স্বাস্থ্যসেবা ও পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি।
উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিরা
ডক্টর সৈয়দ আব্দুল হামিদ – অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ হেলথ ইকোনমিক্স
মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম – বিভাগীয় পরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
আসমা জামান রিতা – পুলিশ সুপার, বাংলাদেশ পুলিশ
ডক্টর আশীষ কুমার চক্রবর্তী – ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
রাশেদ রাব্বী – স্বাস্থ্য সম্পাদক, দৈনিক কালবেলা
ডক্টর মোহাম্মদ ইলিয়াস – প্রধান পরামর্শক, ড্রিমার্স কনসালটেন্সি অ্যান্ড রিসার্চ
ডক্টর ইয়াসিন আলী – চেয়ারম্যান, ঢাকা সিটি সাইকোথেরাপি হাসপাতাল
প্রফেসর ডক্টর গোলাম মহিউদ্দিন – প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি
বিশেষ বক্তাদের মূল্যবান মতামত
✔ ডক্টর সৈয়দ আব্দুল হামিদ বাংলাদেশের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে জেলা শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি, তিনি পরামর্শ দেন বিখ্যাত পর্যটন স্থানে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন করা গেলে দেশীয় ও বিদেশি পর্যটকরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন।
✔ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার উন্নতির সম্ভাবনা ও করণীয় বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন।
✔ পুলিশ সুপার আসমা জামান রিতা জানান, বাংলাদেশে আগত চিকিৎসা পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যটন পুলিশের একটি বিশেষ বিভাগ রয়েছে। এর মাধ্যমে, তারা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালান যাতে বিদেশি পর্যটকরা বাংলাদেশে নিরাপদে চিকিৎসা নিতে পারেন।
✔ প্রফেসর ডক্টর গোলাম মহিউদ্দিন বলেন, “বাংলাদেশে এই মুহূর্তে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় নয়, বরং বিনিয়োগ করার মানসিকতা রাখতে হবে। যদি আমরা মেডিকেল ট্যুরিজমকে দেশের জন্য উপযোগী করে গড়ে তুলতে পারি, তাহলে মালয়েশিয়া ও অন্যান্য দেশের মতো প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে পারব এবং একই সঙ্গে রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে পারব।”
✔ বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশের বিদ্যমান প্রযুক্তির মানোন্নয়ন করা হলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক চিকিৎসা পর্যটক আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে।
বিএমটিএ কর্তৃক প্রদত্ত সম্মাননা
🏆 সেরা কার্ডিয়াক সার্জন – ডক্টর লুৎফর রহমান, ল্যাবএইড হাসপাতাল
🏆 সেরা অর্থোপেডিক সার্জন – ডক্টর এম. আলী, এভারকেয়ার হাসপাতাল, ঢাকা
🏆 মেডিকেল ট্যুরিজম আইকন (বাংলাদেশ) – মরহুম মোঃ আব্দুর রব
🏆 বেস্ট হেলথ ওয়ারিয়র – ড্রিমার্স কনসালটেশন অ্যান্ড রিসার্চ
🏆 সেরা মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল (মালয়েশিয়া) – কেপিজে হেলথ কেয়ার
বিএমটিএ এর বক্তব্য
বাংলাদেশ মেডিকেল ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন (বিএমটিএ)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাত এবং ইনবাউন্ড ও আউটবাউন্ড চিকিৎসা পর্যটনের প্রসারে এই কনফারেন্স একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমাদের চিকিৎসা খাতের অবস্থান সুসংহত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”