
X
অ্যাপভিত্তিক অনলাইন ট্রেডিং ‘ফরেক্স ট্রেডিং’-এর মাধ্যমে ডিজিটাল প্রতারক চক্র নিরীহ মানুষের শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কয়েক হাজার মানুষ বেশি মুনাফার আশায় এই অ্যাপের মাধ্যমে বিনিয়োগ করে এখন সর্বস্বান্ত। এ চক্রের এক হোতা শাকিব উদ্দিন ও তার ভাই বিপুল অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে তা বিদেশে পাচার করেছে। তারাও এরই মধ্যে দুবাই পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে শাকিব চক্র এখন দুবাই থেকে নতুন কৌশলে এই প্রতারণার জাল বিস্তার করছেন বলে জানা গেছে। এর সঙ্গে দেশের কিছু অসাধু লোক যুক্ত হয়ে একটি শক্তিশালী মার্কেটিং নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে টাকা বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করা হচেছ।
অল্প বিনিয়োগে বড় লাভের টোপের ফাঁদে পড়ে মোটা অংকের অর্থ হারানো এক ভুক্তভোগী নাজমুল হোসেনের বর্ণনায় উঠে এসেছে এই চক্রের প্রতারণার ভয়াবহ চিত্র। নাজমুল জানান, ট্রেডিং সম্পর্কে তার কোনো ধারণা না থাকলেও, বাড়তি আয়ের চিন্তায় তিনি সজিব নামের একজনের মাধ্যমে এই ট্রেডিংয়ে যুক্ত হন।
তিনি বলেন, ‘প্রথমে কম টাকা ইনভেস্ট করি এবং একটা প্রফিট আসতে থাকে। পরে আমাকে জানানো হয়, বেশি টাকা ইনভেস্ট করলে বেশি আসবে। আমিও লোভে পড়ে ট্রেডিংয়ে বেশি টাকা ইনভেস্ট করি। বেশি টাকা ইনভেস্ট করার পর দেখি আমার সঙ্গে প্রতারক চক্র যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। পরে জানতে পারি এরা প্রতারক। আমার মত আরও অনেকেই তাদের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তবে অনেকে লজ্জায় এই সব প্রকাশ করতে চান না।’
শাকিব উদ্দিনের নেটওয়ার্ক কাজ করে নিজেও প্রতারণার শিকার হওয়া এক যুবক জানান, কাজের বিনিময়ে তাদের কমিশন দেওয়া হয়। তাদের মূল কাজ হলো লোকজনকে বুঝিয়ে বিনিয়োগ করানো। এই প্রতারণার জাল এখন এতটাই বিস্তৃত যে অনেক শিক্ষিত লোকও এতে জড়িয়ে পড়েছে। চক্রটি এমন লোকেদের টার্গেট করে, যাদের সহজেই বিনিয়োগে আগ্রহী করা যায়। এই শক্তিশালী মার্কেটিং নেটওয়ার্কের এজেন্টরা এখন দেশের প্রায় সব জেলায় ছড়িয়ে আছে। আর মূল হোতা শাকিব উদ্দিন প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাতকৃত অর্থ ডলার বা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে (দুবাই) পাচার করছেন।
অর্থনীতিবিদরা এ ধরণের প্রতারকদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার পরামর্শ দিয়ে বলেন, এই ট্রেডিং এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছে, যা দেশের জন্য হুমকি স্বরূপ। কারণ দেশের অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে। আর এই কাজ করছে কিছু অসাধু লোক, যার মাধ্যমে নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এদের প্রতারণার ফাঁদ দ্রুত ছিন্ন করতে না পারলে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক নিরঝর আলম বলেন, গণমাধ্যমে শাকিব উদ্দিনকে নিয়ে অনেক পজিটিভ নিউজ হচ্ছে। যা দেশের জন্য ক্ষতিকর। প্রতারকদের সম্পর্কে সতর্ক না হয়ে গণমাধ্যমকে এ ধরণের ইতিবাচক সংবাদ না করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে শাকিবের মতো প্রতারকদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে এসে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি উঠেছে। এই ধরনের প্রতারণামূলক অর্থপাচার বন্ধে সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীসহ অনেকেই।