
X
মাদারীপুরে শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়েছে। জেলা বিভিন্ন প্রান্তের ধর্মপ্রাণ কয়েক হাজার মুসলমান মসজিদে প্রথম নামাজ আদায় করার জন্য আসেন। জুমার নামাজের ঈমামতি করান মাওলানা মো. রুহুল আমিন।
এ সময় মাদারীপুর জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আল নোমান, জুয়েল আহমেদ, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন রানৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, ছাত্রসহ সর্ব সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ প্রায় চার বছর পূর্বে শুরু করলেও বিভিন্ন সমস্যার কারনে প্রথমে মূল ভবন নির্মাণে কিছুটা বিলম্ব হয়। এরপর ভবন নির্মাণ হলেও ঈমাম নিয়োগ দেয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মুসল্লীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এক পক্ষ চায় পুরাতন মসজিদের ঈমামকে বাদ দিয়ে নতুন ঈমাম নিয়োগ করতে আরেক পক্ষ চায় পুরাতন ঈমামই মডেল মসজিদের ঈমাম হবে।
বিষয়টি নিয়ে কয়েক মাস পূর্বে সাংবাদিকদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে দুই পক্ষই। অবশেষে নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে জাহাঙ্গীর আলম যোগ দেয়ার পর মসজিদটি চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এর ফলেই শুক্রবার মসজিদটি জুমার নামাজের মাধ্যমে উদ্বোবন করা হলো।
রিপন মিয়া নামের এক মুসল্লী বলেন, অনেক দিন পূর্বে মসজিদটির ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। ঈমাম নিয়োগসহ বিভিন্ন কারনে নামাজের জন্য মসজিদটি খুলে দেয়া হয়নি। অবশেষে আজ জুমার নামাজের মাধ্যমে মসজিদে নামাজ আদায় করতে পেরে মুসল্লীরা খুবই আনন্দিত।
মাদারীপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকা ব্যায়ে জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। আমরা ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে বুঝিয়ে দিয়েছি মসজিদটি। ঈমাম নিয়োগ নিয়ে সমস্যার কারনে মসজিদটি উদ্বোধন করা হয়নি। অবশেষে আজ জুমার নামাজের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হলো।
জেলা মডেল মসজিদের সভাপতি মাদারীপুর জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জুমার নামাজের মধ্য দিয়ে জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়েছে। মডেল মসজিদের ইমাম নিয়োগ নিয়ে অনেক দিন ধরে সমস্যা চলছিল। এ জন্যই উদ্বোধন করতে একটু বেশি সময় লেগেছে। আমি এ জেলায় নতুন যোগদান করেছি। যোগদানের পর থেকেই মসজিদটি চালু করা যায় সে বিষয়ে মসজিদের স্থানীয় মুসল্লী, মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনাসহ বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেই।
কমিটির সিদ্ধন্ত অনুযায়ী বছরের প্রথম শুক্রবার পবিত্র জুমার নামাজের মধ্য দিয়ে মুসল্লীদের নামাজ আদায় করার জন্য খুলে দেয়া হলো। আর ঈমাম নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নতুন খতিব নিয়োগের জন্য যাচাই-বাছাই চলছে। এখন আমরা শুধু শুক্রবার জুমার নামাজ পড়ানোর জন্য আমরা একজন খতিব নিয়োগ দিবো। আর পুরাতন যে ঈমাম সাহেব আছেন তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়াবেন। পুরাতন ঈমামকে রাখা না রাখার বিষয়ে এখনো কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।