
X
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে কার্যক্রম চলছে। ফলে জরাজীর্ণ ও ব্যবহারের অনুপযোগী ভবনটিতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারী, কপিস্ট-দলিল লেখক ও ভূমিক্রয়-বিক্রয়ে সেবাগ্রহিতারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কর্তৃপক্ষ বরাবর একাধিকবার আবেদন-নিবেদন করলেও ব্যবহার উপযোগি ভবন সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৭ সালে উপজেলা পরিষদ ভবন নির্মাণ কালে " উপজেলা ফৌজদারি ও দেওয়ানি আদালত হিসাবে ভবনটি নির্মাণ করা হয়।পরবর্তী সময়ে উপজেলা পরিষদ বাতিল করলে ফৌজদারি ও দেওয়ানি আদালত কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে ভবনটি ভূমিরেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমে সাব-রেজিস্ট্রার অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার কাজ না হওয়ায় ভবনটির অবস্থা দিন দিন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। প্রায় অর্ধযুগ পূর্বে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে।অফিস পরিচালনার জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এক প্রকার বাধ্য হয়েই সংশ্লিষ্টরা ঝুঁকি পূর্ণ ভবনেই চলাচ্ছে অফিসের কার্যক্রম।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনের ছাদ ও দেয়ালের বিভিন্ন অংশে বড় বড় ফাটল। প্লাস্টার খসে পড়ছে, বীমের ভেতরের রড বেরিয়ে এসেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ছাদ থেকে প্রায়ই বালু-সিমেন্টের চাপড়া পড়ে যাওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটছে। সম্প্রতি কয়েকজন কর্মচারী দায়িত্ব পালন কালে প্লাস্টার খসে সামান্য আহত হয়েছেন। এমত অবস্থায় প্রতিদিন শত শত মানুষ দলিল নিবন্ধনসহ বিভিন্ন কাজে ভবন ব্যবহার আসছেন।
রেজিস্ট্রেশন সেবা নিতে আসা ভাঙ্গুড়া পৌর এলাকার বাসিন্দা প্রভাষক অসীম কুমার ঘোষ বলেন, ভবনের ভেতরে ঢুকতেই ভয় লাগে।মাথার ওপর যে কোনো সময় ছাদ ভেঙে পড়তে পারে এ আশঙ্কা নিয়েই ভূমি রেজিস্ট্রেশন কাজ শেষ করতে হয়েছে।
দিলপাশার ইউনিয়নের বাসিন্দা শাহ আলম বলেন,সরকার যে অফিস থেকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে, সেখানে এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে অফিস পরিচালনা খুবই দুঃখজনক। নারী ও বয়স্ক মানুষও এখানে আসেন, তাদের নিরাপত্তা কে নিশ্চিত করবে?
একই উদ্বেগ প্রকাশ করে দলিল লেখার কাজে আসা রোকশানা আক্তার বলেন, ভবনের ভেতরে বসে অপেক্ষা করার মতো পরিবেশ নেই। একটু শব্দ হলেই মনে হয় কিছু একটা ভেঙে মাথার উপর পড়বে।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মো. জাকির হোসেন মানিক বলেন, পুরাতন ও ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনে দীর্ঘদিন ধরে ভূমি রেজিস্ট্রেশনের কাজ চলছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বারবার আবেদন করা হলেও বাস্তব কোনো কাজের কাজই হয়নি।
সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের মহরার মো. আলতাব হোসেন বলেন,এটি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়বর্ধক দপ্তর।অথচ দীর্ঘদিন ধরে ভগ্নদশায় পড়ে আছে। উপায় না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই আমরা কাজ করছি।পাশাপাশি মূল্যবান সরকারি দলিল-নথিপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার রিজভী ইবনে মাহমুদ বলেন, ভবনটি অনেক আগেই ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কিন্তু এখনো নতুন ভবন নির্মাণ বা বিকল্প স্থানে অফিস স্থানান্তরের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে ঝুঁকি ও ভোগান্তির মধ্যেই দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্রও চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাপস পাল বলেন,ভাঙ্গুড়া সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কাজ-কর্ম চলছে।নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে।
ভাঙ্গুড়ার অভিজ্ঞ মহল দাবি জানিয়েছেন, অবিলম্বে ভাঙ্গুড়া সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের কার্যক্রম নিরাপদ বিকল্প স্থানে স্থানান্তর এবং দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক। অন্যথায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কার প্রকাশ করেছেন।