দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় চাঁদাবাজির মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর বোচাগঞ্জ উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী মো. এম এ তাফসির হাসানসহ দুইজনকে আটক করে কারাগারে পাঠিয়েছে বোচাগঞ্জ থানা পুলিশ।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ২ নম্বর ইশানীয়া ইউনিয়নের বাড়েয়া গ্রামের বাসিন্দা পরিমল চন্দ্র রায়ের বাড়িতে গত ৩ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে মো. মঞ্জুরুল আলী (৩৬), পিতা মো. আব্দুল করিমসহ অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জন ব্যক্তি লোহার পাইপ ও স্টিলের তৈরি লাঠি নিয়ে প্রবেশ করে। তারা পরিমল চন্দ্র রায়কে খুঁজতে থাকে। তাকে না পেয়ে মামলার বাদী সন্তোষ চন্দ্র রায়কে কিল-ঘুষি মারধর করে এবং ট্রাংকের চাবি দাবি করে। চাবি না দিলে সবাইকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়।
একপর্যায়ে অভিযুক্তরা বাদীর কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ সময় এলাকাবাসী বিষয়টি টের পেয়ে চাঁদাবাজদের ধাওয়া দিলে সবাই পালিয়ে গেলেও মঞ্জুরুল আলীকে আটক করতে সক্ষম হয়। পরে আটককৃত মঞ্জুরুল আলীকে ছাড়িয়ে নিতে উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর প্রধান সমন্বয়কারী মো. এম এ তাফসির হাসান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে এলাকাবাসী তাকেও আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
এ বিষয়ে বোচাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, রাতে তিনি সংবাদ পান যে মঞ্জুরুল নামের এক যুবককে চাঁদাবাজির অভিযোগে এলাকাবাসী আটক করেছে। প্রথমে তিনি ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্য পাঠান এবং পরে নিজেও সেখানে উপস্থিত হন। উত্তেজিত জনতা ঘটনাস্থলেই তাদের বিচার করতে চাইছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আর্মির প্যান্ট পরিহিত আটককৃত মঞ্জুরুল আলী ও এম এ তাফসির হাসানকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, ৪ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে সন্তোষ চন্দ্র রায়, পিতা মৃত সাকুরা রাম, সাং-বাড়েয়া, বাদী হয়ে আটককৃত দুইজনসহ অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে বোচাগঞ্জ থানায় চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। মামলার পর তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের দিনাজপুর জেলা কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।