সরিষা ক্ষেতে বাক্স পেতে মধুর অপেক্ষা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

সারাবাংলা

শীতের আগমনে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দিগন্তজোড়া মাঠ এখন সরিষা ফুলের হলুদে ছেয়ে গেছে। আর এই সরিষা ক্ষেতগুলোকে কেন্দ্র

2026-01-05T11:27:37+00:00
2026-01-05T11:27:37+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
সরিষা ক্ষেতে বাক্স পেতে মধুর অপেক্ষা
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:২৭ এএম   (ভিজিট : ৫১)
X

শীতের আগমনে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দিগন্তজোড়া মাঠ এখন সরিষা ফুলের হলুদে ছেয়ে গেছে। আর এই সরিষা ক্ষেতগুলোকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌচাষিরা। আধুনিক পদ্ধতিতে বক্স বসিয়ে সংগ্রহ করা হচ্ছে শতভাগ খাঁটি ও প্রাকৃতিক মধু। এই উদ্যোগে একদিকে যেমন কৃষক লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে বাড়ছে সরিষার ফলনও।

সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের তুরা রোড, ফুলবাড়ী, বড়াইবাড়ী, বন্দবেড় ইউনিয়নের মদা ব্যাপারীর ঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় সারিবদ্ধভাবে মৌমাছির বক্স বসানো হয়েছে। মাঠজুড়ে মৌমাছিরা ফুল থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত। চাষিরা ব্যস্ত বক্স থেকে মধু সংগ্রহে।
চাষিরা জানান, এই মধু স্বাদ ও পুষ্টিগুণে বাজারের সাধারণ মধুর চেয়ে অনেক উন্নত। খরচ বাদ দিয়ে যা দাম পাওয়া যাচ্ছে তাতে তারা খুশি।

রৌমারীর সরিষা ক্ষেতে মধু সংগ্রহ করতে এসেছেন সাতক্ষীরা ও কুমিল্লার মতো দূরবর্তী এলাকার উদ্যোক্তারা। সরিষার ক্ষেতে তারা সারি সারি বক্স বসিয়েছেন।

সাতক্ষীরার রাজ মিয়া তুরা রোডের পাশে ১২০টি বক্স বসিয়েছেন। তিনি জানান, আবহাওয়া ভালো থাকলে প্রতি সপ্তাহে মধু সংগ্রহ করা যায়। খুচরা বাজারে এই মধু ৪০০-৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সহযোগী হিসেবে একজন লোক রয়েছেন। তাঁকে প্রতি মাসে বেতন দিতে হয় ১০ হাজার টাকা। এরপরও যা থাকে তাতে লোকসান হয় না।

এ রোডের শাহজাহানের বাড়ির পাশে বক্স বসিয়ে মধু আহরণ করছেন সাতক্ষীরার শ্যামনগরের সুমন মিয়া। তিনি মাসখানেক হয় এখানে এসেছেন। আবহাওয়া ভালো না থাকার কারণে এ পর্যন্ত মধু সংগ্রহ করতে পারেননি। আশা করছেন, অল্প কয়েক দিনের মধ্যে মধু সংগ্রহ করবেন। 

একই এলাকার রয়েল আহমেদ বন্দবেড় ইউনিয়নে ৮০টি বক্স বসিয়েছেন। আবহাওয়া কিছুটা প্রতিকূল থাকলেও তিনি এরই মধ্যে দুই মণ মধু সংগ্রহ করেছেন। কুমিল্লার সাকিব ২৮টি বক্স নিয়ে মধু আহরণ করছেন এবং সামনের দিনগুলোতে উৎপাদন বাড়ার আশা করছেন।

চাষিদের মতে, সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করতে হয় না। অল্প বিনিয়োগে এটি একটি লাভজনক ব্যবসা। তবে কুয়াশা বা খারাপ আবহাওয়া থাকলে মৌমাছি বক্স থেকে বের হতে পারে না। ফলে উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হয়।

রৌমারী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট চার হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। উপজেলার ১৬টি স্পটে এখন পর্যন্ত দুই হাজার ৬০টি মৌ-বক্স স্থাপন করা হয়েছে। 

কর্মকর্তা কাইয়ুম চৌধুরী সমকাল প্রতিবেদককে জানান, মৌমাছিরা সরিষার পরাগায়ণে সহায়তা করে, যার ফলে সরিষার ফলন ১০-২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। মধু চাষের এই ধারা যেমন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করছে, তেমনি স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy