প্রকাশ: সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:২০ পিএম আপডেট: ০৫.০১.২০২৬ ১:৪৫ পিএম (ভিজিট : ২৫১)

X
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ নাচোল রেলওয়ে স্টেশনটি এখন নিজেই যেন এক জরাজীর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
মাত্র তিনজন কর্মচারী দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে স্টেশনের কার্যক্রম। এর সাথে যোগ হয়েছে অবকাঠামোগত বেহাল দশা এবং প্ল্যাটফর্মে অবৈধ দখলদারিত্ব। কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিনের উদাসীনতায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা।
স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তার বালাই নেই বললেই চলে। পুরো স্টেশনের দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র দুইজন বুকিং সহকারী এবং একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। স্টেশন মাস্টারের অভাব এবং পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় দাপ্তরিক কাজ থেকে শুরু করে যাত্রীসেবা সবকিছুই ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্টেশনের প্ল্যাটফর্মটি এখন আর যাত্রীদের জন্য নিরাপদ নয়। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে প্ল্যাটফর্মের ওপর দিয়েই যত্রতত্র চলাচল করছে ভ্যান, অটোরিকশা এবং মোটরসাইকেল। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা। এছাড়াও, প্ল্যাটফর্মের বড় একটি অংশ বিভিন্ন ভাজাপোড়ার ভাসমান দোকানের দখলে চলে গেছে। হকার ও যানবাহনের দাপটে যাত্রীদের ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করাই এখন দায় হয়ে পড়েছে।
স্টেশনের ওয়াশরুমটি দীর্ঘ দিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ফলে নারী ও শিশু যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি বিড়ম্বনায় পড়ছেন। অন্যদিকে, স্টেশনে নেই কোনো কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা। সামান্য বৃষ্টিতেই প্ল্যাটফর্ম পানিতে তলিয়ে যায়, তখন নোংরা পানি মাড়িয়ে যাত্রীদের ট্রেনে উঠতে হয়। বর্ষাকালে এই দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।
এ বিষয়ে বুকিং সহকারী (ইনচার্জ) জানান, স্টেশনের এই দুরবস্থার কথা জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবগত করা হয়েছে। বিশেষ করে এসএসএই (ওয়ার্কস) বাংলাদেশ রেলওয়ে, রাজশাহী-কে বিভিন্ন সময়ে লিখিত আবেদন জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি। আবেদনের পর আবেদন জমা পড়লেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
নাচোল উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান আমানুল্লাহ আল মাসুদ, সঞ্চয় বন্ধনে আমরা সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম এবং স্থানীয় যাত্রী ও সচেতন মহলের দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে নাচোল রেলস্টেশনের জনবল সংকট দূর এবং সংস্কারের মাধ্যমে যাত্রীসেবার মান ফিরিয়ে আনা হোক। অন্যথায় বড় কোনো আন্দোলনের ডাক দেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন স্থানীয়রা।