
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ কাজের ৩ টি স্থানে ব্লক ধস দেখা দিয়েছে। কালিতলা গ্রোয়েন বাঁধের কাছ থেকে উত্তরে এ ধস দেখা দিয়েছে। নদীর পশ্চিম পাশে ডাকুরিয়া নদী রয়েছে সেখান থেকে চোয়ানো পানি আসায় এ ধসের সৃষ্টি হয়েছে। এতে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে।
এখন যমুনা নদীর এই অংশটি একদম শুকনা কিন্তু নদীতে পানি বাড়তে থাকলেই যে কোন সময় বড় ভাঙ্গনের সৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। তাই শুষ্ক মৌসুমে এখানে রিপিয়ারিং কাজ করা অতি জরুরি। এখানে ভাঙ্গন সৃষ্টি হলে কালিতলা গ্রোয়েন বাঁধসহ উপজেলা সদর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।
কালিতলা গ্রোয়েন বাঁধটি যমুনা নদীর ভাঙ্গনরোধে শক্তিশালী ভুমিকা পালন করছে। এ বাঁধটি থাকায় নদীর ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পেয়েছে সারিয়াকান্দি উপজেলা ও সদর ইউনিয়টি। যেখানে ব্লক ধসের শুরু হয়েছে ঠিক সেখান থেকে ৩ শ মিটার দুরে সরকারি আব্দুল মান্নান মহিলা কলেজের অবস্হান। এছাড়াও এই গ্রোয়েন বাঁধ থেকে উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের দুরত্ব মাএ এক কিলোমিটার। আর ভাঙ্গন কবলিত এলাকা থেকে ৬০০ মিটার এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ ৫০০ মিটার, যা এখন ভাঙন হুমকিতে।
সরজমিনে গিয়ে জানাযায়, প্রায় মাস খানেক এই এলাকার নদীর পানি একদম শুকিয়ে যায়। এর কিছুদিন পর থেকেই নদীর পশ্চিম পার্শ্ববর্তী ডাকুরিয়া নদী থেকে চোয়ান পানি ব্লকের নিচ দিয়ে ক্রমাগত যমুনা নদীতে আসায় সেখানকার মাটি সরে গিয়ে এ ধসের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ওই এলাকার ৩০০ মিটার তীর সংরক্ষণ বাঁধে এ ধসের সৃষ্টি হয়েছে। তারমধ্যে একদম ব্লক সরে গিয়ে ১০০ মিটারের মতো জায়গায় বড় বড় তিনটি গর্ত তেরী হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এখানে যমুনা নদীর স্রোতে নদী ভাঙ্গন সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এখানে নদী ভাঙ্গন সৃষ্টি হলে নিমিষেই সেই ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কালিতলা গ্রোয়েন বাঁধ।
স্হানীয়দের সাথে কথা বললে তারা জানায়, শুষ্ক মৌসুমে এখানে মেরামতের কাজ না করলে, এখানকার অব্যাহত ভাঙনে পারতিতপরল ও ধাপ গ্রামের শতাধিক পরিবারসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়, সরকারি মহিলা কলেজ এবং কালিতলা গ্রোয়েন বাঁধসহ এলাকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভাঙ্গন হুমকিতে পরবে। তাই তাদের দাবি দ্রুত শুষ্ক মৌসুমে ধসে যাওয়া অংশে জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের কাজ করবেন সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।
ধাপ গ্রামের দলিল লেখক মো.মিজানুর রহমান মিজান বলেন, এখানে নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধের কয়েকটি জায়গায় ব্লক ও ম্যাট সরে গিয়ে কয়েকটি বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে৷ আমরা নদী পাড়ের মানুষ আমরা জানি এখনি যদি এটি মেরামত না করা হয়। সামনের বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই এখানে ব্যাপক ভাঙ্গন সৃষ্টি হবে। এতে বসতবাড়িসহ অনেক অফিস আদালত ও মুল বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই এটি দ্রুত মেরামত করার দাবি জানাচ্ছি।
বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,যেসব স্থানে ধস দেখা দিয়েছে, সেগুলো আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে মেরামত করব।যেখানে ধসের সৃষ্টি হয়েছে তার কাছে ডাকুরিয়া নদী রয়েছে। সেখান থেকে চোয়ানো পানি নেমে ব্লকের নিচের মাটি সরে গেছে, তাছাড়া তীর সংরক্ষণ কাজটি গত ২০০৪ সালের দিকে সম্পন্ন করা হয়েছে। ধসে যাওয়া এলাকা আমরা একাধিকবার পরিদর্শন করেছি। খুব শিগগিরই সেখানে মেরামত কাজ শুরু করা হবে।