ঝালকাঠিতে ডিবির মাদক বিরোধী অভিযানে ১ বছরে গ্রেফতার- ১০০

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

সারাবাংলা

ঝালকাঠি জেলায় দিন দিন বাড়ছে মাদক কারবারি ও মাদকসেবীর সংখ্যা। এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ফেন্সিডিলের ব্যবহার কমলেও ইয়াবা

2026-01-07T14:50:27+00:00
2026-01-07T14:50:27+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
ঝালকাঠিতে ডিবির মাদক বিরোধী অভিযানে ১ বছরে গ্রেফতার- ১০০
ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৫০ পিএম   (ভিজিট : ৯১)
X

ঝালকাঠি জেলায় দিন দিন বাড়ছে মাদক কারবারি ও মাদকসেবীর সংখ্যা। এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ফেন্সিডিলের ব্যবহার কমলেও ইয়াবা ও গাঁজার দিকে ঝুঁকছে মাদকসেবীরা। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্রিয় রয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ঝালকাঠি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গত এক বছরে মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধে ১০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় মামলা ও আসামির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

ডিবি সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছে মাদকের ডিলার, খুচরা বিক্রেতা, নিয়মিত মাদকসেবী এবং অন্যের জন্য মাদক বহনকারী ব্যক্তিরা। 

গ্রেফতার কৃত ১০০ জনের মধ্যে গত বছরের প্রথম ছয় মাসে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৪১ জন এবং জুলাই থেকে ডিসেম্বর অর্থাৎ শেষ ৬ মাসে ৫৯ জনকে বিভিন্ন অভিযানে আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মোট ৮৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৩৬টি এবং জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪৭টি মামলা হয়েছে।

গত এক বছরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ঝালকাঠি থেকে উদ্ধার করেছে ২ হাজার ৯২৩ পিস ইয়াবা, ১৯ কেজি গাঁজা, ১৫টি গাঁজাগাছ এবং ২১৫ পিস প্যাথেড্রিন ইনজেকশন। এর মধ্যে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত উদ্ধার হয় ১ হাজার ৫১২ পিস ইয়াবা, ৩ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা, ১৫টি গাঁজাগাছ ও ২১৫ পিস প্যাথেড্রিন ইনজেকশন। আর জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত উদ্ধার করা হয় ১ হাজার ৪১১ পিস ইয়াবা ও ১৫ কেজি ৮০০ গ্রাম গাঁজা। উদ্ধারকৃত এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য কয়েক লাখ টাকা।

তবে গত এক বছরে জেলায় কোনো ফেন্সিডিল উদ্ধার হয়নি। একসময় ঝালকাঠিতে ফেন্সিডিলের ব্যাপক ব্যবহার থাকলেও বর্তমানে প্রতি বোতলের দাম প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টাকা হওয়ায় সেবনকারীরা ইয়াবা ও গাঁজার দিকে ঝুঁকছে।

যদিও হাতেগোনা কয়েকজন ফেন্সিডিল কারবারি সীমিত পরিসরে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, মাদক পরিবহনের ঝুঁকি এড়াতে কিছু এলাকায় গাঁজা চাষের প্রবণতাও দেখা দিয়েছে। গত বছরের ১ মে নলছিটি উপজেলার সিদ্ধকাঠি ইউনিয়নের ফুলহরি গ্রামে ভুট্টাক্ষেত থেকে ১৪টি গাঁজাগাছ এবং ১৯ এপ্রিল রাজাপুর উপজেলার পূর্ব কানুদাসকাঠি গ্রামের একটি সবজি ক্ষেত থেকে একটি গাঁজাগাছ উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ।

মাদকের বিরুদ্ধে ডিবি পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেক ভুক্তভোগী পরিবার, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ। তারা আগামী দিনে আরও কঠোর অভিযানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ঝালকাঠি জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, 'পুলিশ সুপার মাদক সংশ্লিষ্টদের বিন্দু পরিমান ছাড় দেননা। তার নির্দেশে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ফেন্সিডিল কারবারিদের শনাক্তে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। মাদকবিরোধী অভিযান দিন-রাত চলমান রয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলে শিক্ষার্থী, যুবসমাজ ও সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।'






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy