
X
ছবি: প্রতিনিধি
বর্ষার স্নিগ্ধতায় সবুজ হয়ে উঠেছে চন্দনাইশের কৃষিজমি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন চলছে আমন ধানের চারা রোপণের ব্যস্ততা। ভোর থেকে কাদামাটিতে নেমে সারিবদ্ধভাবে চারা রোপণ করছেন কৃষকেরা। কোথাও জমি প্রস্তুতের কাজ, কোথাও আবার দলবেঁধে চলছে চারা রোপণ। কৃষকের কর্মচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে উঠেছে উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠ।
চলতি আমন মৌসুমে চন্দনাইশ উপজেলায় ৮ হাজার ২৪৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও জমিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকায় বাকি জমিতেও দ্রুত চারা রোপণের কাজ এগিয়ে চলছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আমন আবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করতে চলতি মৌসুমে বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বন্যার আগে উপজেলার ১ হাজার ৬০০ জন কৃষককে বিনামূল্যে আমন ধানের বীজ ও সার প্রণোদনা দেওয়া হয়। এছাড়া বন্যা-পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন ও আমন আবাদে সহায়তার জন্য ৭ হাজার ৯০০ জন কৃষককে বিনামূল্যে ধানের বীজ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলার ছৈয়দাবাদ, কাঞ্চননগর, হারলা, বরকল, বরমা, সাতবাড়ীয়া, দোহাজারী, ধোপাছড়িসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন আমন আবাদ নিয়ে। কেউ জমিতে মই দিচ্ছেন, কেউ চারা তুলছেন, আবার কেউবা কাদামাটিতে দাঁড়িয়ে সারিবদ্ধভাবে চারা রোপণ করছেন। বর্ষার পানিতে সিক্ত জমিতে কৃষকদের এই ব্যস্ততা জানান দিচ্ছে নতুন কৃষি মৌসুমের প্রাণচাঞ্চল্য।
ধোপাছড়ি এলাকার কৃষক জয়নাল আবেদিন জানান, সময়মতো জমি প্রস্তুত করে চারা রোপণ করতে পারলে ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। এরপরও অনুকূল আবহাওয়া, ভালো ফলন ও ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার প্রত্যাশায় আমন চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন তারা।
কৃষকদের প্রত্যাশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোগবালাই বা পোকার আক্রমণ না হলে এবার আমনের ভালো ফলন হবে। এতে কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে এবং স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আজাদ হোসেন বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমন আবাদ সম্পন্ন করতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। আমাদের উপ সহকারি কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীরা মাঠপর্যায়ের কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ইনশাআল্লাহ নির্ধারিত ৮ হাজার ২৪৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।