এ হত্যাকাণ্ডের ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও ফেলানীর পরিবার এখনও ন্যায়বিচার পায়নি। ভারতের উচ্চ আদালতে মামলাটি এখনও ঝুলে থাকায় স্বজনরা শঙ্কিত। তাদের আশা, তারা জীবিত থাকতে মেয়ের হত্যার বিচার দেখে যেতে পারবেন।
ঘটনার বিস্তারিত:
ফেলানী খাতুনের পরিবার, যার বাবা নূর ইসলাম কাজের সন্ধানে ভারতের আসাম রাজ্যে থাকতেন, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে দেশে ফিরছিল। বিয়ের জন্য ফিরছিলেন ফেলানী। ফুলবাড়ীর অনন্তপুর সীমান্তে মই বেয়ে কাঁটাতার পার হওয়ার সময় বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে মারা যান ফেলানী। সকাল পৌনে ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত তার মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলে ছিল, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
বিচারের অপেক্ষা:
২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের কোচবিহারে বিএসএফের বিশেষ আদালতে বিচারকাজ শুরু হলেও, ২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে খালাস দেওয়া হয়। রায় প্রত্যাখ্যান করে ফেলানীর বাবা পুনর্বিচারের আবেদন করেন। ২০১৪ সালে পুনরায় বিচার শুরু হলেও ২০১৫ সালের ২ জুলাই আবারও তাকে খালাস দেওয়া হয়। এরপর মানবাধিকার সংগঠন 'মাসুম'–এর সহায়তায় ২০১৫ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন করেন ফেলানীর বাবা। তবে কয়েক দফা শুনানির তারিখ পিছিয়ে যাওয়ার পর ২০২০ সালের ১৮ মার্চ শুনানির দিন ধার্য ছিল, কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে তা আর হয়নি। এরপর মামলার বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফেলানীর বাবার আকুতি:
ফেলানীর বাবা নূর ইসলাম বলেন, "মেয়ের খুনির বিচার চাইতে চাইতে ১৫ বছর পার করলাম। ভারতের সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি ঝুলে আছে, মামলার কী অবস্থা তা–ও জানি না। আমি সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই, অন্তত মরার আগে যেন মেয়ের বিচার দেখে যেতে পারি।"
মায়ের আহ্বান:
ফেলানীর মা জাহানারা বেগম বলেন, "আমার মেয়েকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, আজ ১৫ বছর হয়ে গেল, এখনো বিচার পেলাম না। আমরা এখনও বিচারের অপেক্ষায় আছি, প্রতিদিন পথ চেয়ে আছি।"
আইনজীবীদের মতামত:
কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ফখরুল ইসলাম বলেন, "ফেলানী হত্যার বিচার না হওয়া ভারতের আন্তরিকতার অভাবকেই তুলে ধরে। যদি বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হতো, তাহলে সীমান্ত হত্যার সংখ্যা অনেকটা কমে আসত। ভারত সরকারের উচিত, এই বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করা।"
এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ফেলানী খাতুনের মৃত্যু শুধু বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নিরীহ মানুষের মৃত্যু নয়, এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আলোচনায়ও এক নৃশংসতার চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৫ বছর পরও যে পরিবার এখনও বিচার পায়নি, তা শুধু ফেলানী খাতুনের পরিবারের নয়, সবার জন্যই এক বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।