প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৫ এএম (ভিজিট : ১২১)

X
হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট-মাধবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-৪ আসনে ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী আলোচিত ইসলামী বক্তা মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরী। তার বার্ষিক আয়ের প্রধান উৎস ব্যবসা, কৃষি এবং ব্যাংক আমানতের সুদ। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা হলেও তার ওপর নির্ভরশীলদের নামে কোনো সম্পদ দেখানো হয়নি। এমনকি স্ত্রীর কোনো অলংকার বা নগদ অর্থ না থাকার বিষয়টিও হলফনামায় উল্লেখ করেছেন এই আলোচিত বক্তা।
গিয়াস উদ্দিন তাহেরী তার হলফনামায় উল্লেখ করেন, তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী এবং তার স্ত্রী গৃহিণী। সম্পদ যা আছে সবই নিজের নামে, স্ত্রীর নামে কিছুই নেই; এমনকি স্বর্ণ, গহনাও নেই। তবে নিজের নামে স্বর্ণ আছে ৩১ ভরি। আয়ের খাত ব্যবসা, কৃষি ও ব্যাংক সুদ। স্থাবর-অবস্থাবর মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৭৯ লাখ ৪৩ হাজার ৮৯২ টাকা।
হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়, তাহেরীর অস্থাবর সম্পদ হিসেবে কৃষি খাত থেকে বছরে আয় হয় ২৬ হাজার ৪শ। ব্যবসা থেকে ৭ লাখ ৯১ হাজার। আর ব্যাংক সুদ থেকে পান ২২ হাজার ৮৯২ টাকা। নগদ অর্থ আছে ৪১ হাজার ২৮৬ টাকা। ব্যাংকে জমা আছে ৭ লাখ ৬৩ হাজার ৬০৬ টাকা। স্বর্ণ আছে ৩১ ভরি, যার মূল্য ৬ লাখ টাকা। এছাড়া আসবাবপত্র আছে ৫ লাখ টাকার। এই হিসেবে তার মোট অস্থাবর সম্পদ দাঁড়ায় ১৯ লাখ চার হাজার আটশত বিরানব্বই টাকা।
এছাড়া স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে কৃষিজমি আছে ১ কোটি ৩২ লাখ ৩৯ হাজার টাকার, যার বর্তমান মূল্য ১ কোটি ৬০ লাখ ৩৯ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। তবে তাহেরীর স্ত্রী বা নির্ভরশীলদের কারও নামে কোনো সম্পদ, গহনা, আসবাবপত্র, নগদ টাকা কিছুই নেই।
হলফনামায় গিয়াস উদ্দিন তাহেরী উল্লেখ করেন, তার বাড়ি কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার ভাজরা গ্রামে। হবিগঞ্জের মাধবপুরে তার শ্বশুর বাড়ি, সে সূত্রেই তিনি এ আসনে প্রার্থী হয়েছেন। হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে মোট তিনটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি বিচারাধীন এবং একটি চার্জশিটের অপেক্ষায়। তিনি নিজেকে শিক্ষাগত যোগ্যতায় আলিম পাস হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
হবিগঞ্জ-৪ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৪৫ হাজার ২৭২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪০ হাজার ৯০ জন, নারী ২ লাখ ৭১ হাজার ১৮০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২ জন। এখানে ১৮৩টি স্থায়ী ভোটকেন্দ্র এবং ১ হাজার ১৬টি স্থায়ী ও ৪১টি অস্থায়ী ভোটকক্ষ চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এ আসনে বিএনপির এস এম ফয়সল, খেলাফত মজলিসের আহমেদ আব্দুল কাদের, ইসলামিক ফ্রন্টের মো. গিয়াস উদ্দিন, এবি পার্টির মোকাম্মেল হোসেন, মুসলিম লীগের শাহ মো. আল আমিন, বাসদের মো. মুজিবুর রহমান, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. রাশেদুল ইসলাম খোকন, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মো. রেজাউল মোস্তফা, স্বতন্ত্র প্রার্থী সালেহ আহমদ সাজন ও মো. মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।