প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:১৯ পিএম (ভিজিট : ১৫০)

X
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন, সাইবার নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) গ্রাহকপ্রতি ১০টির বেশি সিমকার্ড বাতিল করেছে। এতে দেশে ৮৮ লাখেরও বেশি সিমকার্ড বন্ধ হয়েছে। এছাড়া এক লাখ সিম মামলা সংক্রান্ত কারণে স্থগিত রয়েছে।
বিটিআরসি জানিয়েছে, দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে গ্রাহকপ্রতি থাকা সিমের সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় নভেম্বর থেকে গ্রাহকের বিপরীতে ১০টির বেশি সিম বন্ধ করা হয়েছে।
বর্তমানে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা বলা হয়েছে, প্রতিটি গ্রাহকের সিম সংখ্যা পাঁচটিতে নামিয়ে আনা হবে। তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গ্রাহকদের অসন্তোষ ও আন্দোলনের কারণে এটি এখনই কার্যকর করা হয়নি। নির্বাচন শেষ হলে এটি বাস্তবায়িত হবে।
বিটিআরসির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, প্রায় ৮৯ লাখ অতিরিক্ত সিম পাওয়া গিয়েছিল, যার মধ্যে ৮৮ লাখের বেশি বন্ধ করা হয়েছে। বাকি এক লাখ সিম মামলার কারণে স্থগিত আছে, তবে দ্রুত তা বন্ধ হবে।
সিমের সংখ্যা কমানোর প্রভাব পড়েছে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারে। ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালু ও অতিরিক্ত সিম বন্ধের কারণে গত ছয় মাসে প্রায় ১৮ লাখ মোবাইল গ্রাহক এবং ৬২.৬ লাখ মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক কমেছে।
বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ২০২৫-এ দেশে চারটি সিম অপারেটরের বিপরীতে মোবাইল ব্যবহারকারী ছিলেন ১৯ কোটি ৪২ লাখ। এক বছর পরে জুলাইয়ে সংখ্যা দাঁড়ায় ১৮ কোটি ৮৭ লাখ এবং বর্তমানে (নভেম্বর ২০২৫) দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৭০ লাখে। মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমলেও ব্রডব্যান্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে। বর্তমানে দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১ কোটি ৪৬ লাখ।