পাকুন্দিয়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্ধশতাধিক ঘরে তালা, বরাদ্দ বাতিলের দাবি

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য বিগত সরকারের আমলে দেওয়া উপহারের বেশিরভাগ ঘরেই তালা ঝুলছে। সেখানে থাকছেন

2026-01-13T17:28:29+00:00
2026-01-13T17:28:29+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
পাকুন্দিয়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্ধশতাধিক ঘরে তালা, বরাদ্দ বাতিলের দাবি
পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:২৮ পিএম   (ভিজিট : ১৪২)
X

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য বিগত সরকারের আমলে দেওয়া উপহারের বেশিরভাগ ঘরেই তালা ঝুলছে। সেখানে থাকছেন না বরাদ্দপ্রাপ্তরা। বরাদ্দ পাওয়ার পরও যারা এসব ঘরে থাকছেন না, তাদের বরাদ্দ বাতিল করে নতুনদের দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২২ শে মার্চ পাকুন্দিয়া উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ১ম, ২য় ও ৩য় ধাপে উপজেলার নারান্দি ইউনিয়নে ৫টি, বুরুদিয়া ইউনিয়নে ৪টি, হোসেন্দী ইউনিয়নে ৫টি, সুখিয়া ইউনিয়নে ৬৭টি, পাটুয়াভাঙ্গা ৭১টি ও পাকুন্দিয়া পৌরসভা ১৪ পরিবারসহ মোট ১৬৬ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে দুই শতাংশ জমির দলিলসহ সেমি পাকা দৃষ্টিনন্দন আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ দেওয়ার মাধ্যমে পাকুন্দিয়া উপজেলা ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিলো। কিন্তু ঘর বরাদ্দ পেয়েও সেখানে থাকছেন না অনেকে। তাদের মধ্যে অনেকের অন্যত্র বাড়ি থাকায় অথবা শহরে বাসা ভাড়া করে থাকায় উপহারের ঘরে এখন তালা ঝুলছে। এ উপজেলায় অর্ধ শতাধিক তালা ঝুলানো ঘর দেখা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, অনেকেই রাজনৈতিক বিবেচনায় ঘরগুলো বরাদ্দ পেয়েছেন। আবার অনেকে জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে নগদ টাকার বিনিময়ে ঘর পেয়েছেন। তাই প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন অনেকেই ঘর পাননি। বেশিরভাগ সুবিধাভোগীকেই বরাদ্দ পাওয়া ঘরগুলো ভাড়া দিয়ে অন্যত্র বসবাস করতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে উপজেলার সুখিয়া ইউনিয়নের আশুতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, সেখানে ৬৭ টি ঘরের মধ্যে ৪০ ঘরেই তালা ঝুলছে। সরকারের দেওয়া নলকূপগুলো চুরি হয়ে গেছে, নেই বৈদ্যুতিক মিটার। আবার যেসব ঘরে লোকজন রয়েছে তাদের মধ্যে কয়েক জন ভাড়াটিয়া। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বরাদ্দ পাওয়া উপকারভোগীরা ঘরগুলো ভাড়া দিয়ে গ্রামের বাড়িতে ও শহরে বসবাস করছেন।

পরে বরাদ্দপ্রাপ্তদের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে তারা জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পের মধ্যে রাস্তাঘাট, বিশুদ্ধ পানি, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান না থাকা সন্ধার পর মাদকাসক্তদের আনাগোনা থাকায় তারা ঘরে তালা দিয়ে বাড়িতে বসবাস করছেন। কয়েকজন ঘর ভাড়া দিয়ে শহরে বসবাস করছেন।

কোনো কোনো ফাঁকা ঘরে খড়কুটো পালা দেওয়া ও গরু-ছাগল বেঁধে রাখতে দেখা যায়। ঘরের দেওয়ালে ধরেছে ফাটল।

ঘর বরাদ্দ পাওয়া রমজান আলীর মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করলে তার পিতা সামসুল আলম বলেন ছেলে রমজানের নামে ঘর সে ঢাকায় থাকেন স্ত্রী সন্তান নিয়ে। তাছাড়া থাকার মতো পরিবেশ না থাকায় আমি বাড়িতে থাকি, মাঝেমধ্যে যাই ঘর দেখাশোনার জন্য।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভাড়া নিয়ে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, প্রায় দুই বছর ধরে ঘর ভাড়া নিয়ে সেখানে থাকছেন তিনি। ঘরের মালিককে প্রতিমাসে ৫শত টাকা করে ভাড়া দেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘প্রকৃত যাদের দরকার তারা ঘর পাননি। যারা প্রভাব খাটিয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগের লোকজন ধরেছেন, তারাই ঘর পেয়েছেন। কিন্তু তারা ঘর পেলেও সেখানে একদিনের জন্যও বসবাস করেননি। ভাড়া দিয়ে অন্যত্র বসবাস করছেন।’

প্রকৃত ভুক্তভোগীরা ঘর বরাদ্দ না পেলেও পেয়েছেন তৎকালীন আওয়ামী লীগের লোকজন। তাদের বরাদ্দ বাতিল করে নতুনদের বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় প্রকৃত ভূমিহীন-গৃহহীনরা।

হোসেন্দী ইউনিয়নে ৫টি ঘরের মধ্যে একটি ঘর বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে তালাবদ্ধ।
এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুপম দাস বলেন, এ উপজেলায় সম্প্রতি যোগদান করেছি। মাত্র আপনার কাছ থেকে শুনেছি, খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy