
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর জেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের তাতিবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর নিহতদের স্বজন ও স্থানীয় বিক্ষুব্ধরা মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ সৃষ্টি করে। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশ ও থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
নিহতরা হলেন— মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের খামারবাড়ি এলাকার জাকির তালুকদারের স্ত্রী তাসলিমা বেগম (৩৫), একই এলাকার আব্বাস তালুকদারের স্ত্রী কোহিনুর বেগম (৪৫) এবং ডাসার উপজেলার পান্তাপাড়া এলাকার রহুল হাওলাদারের ছেলে নয়ন হাওলাদার। তারা সবাই ভ্যানযাত্রী ছিলেন।
এছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় ভ্যানচালক রনি খান (৩০) মাদারীপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি ঘটমাঝি ইউনিয়নের তাতিবাড়ি এলাকার বিল্লাল খানের ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানে করে তাসলিমা, কোহিনুর ও নয়ন মস্তফাপুর এলাকা থেকে ভাঙ্গা ব্রিজের দিকে যাচ্ছিলেন। তাদের সঙ্গে একটি শিশুও ছিল। ভ্যানটি তাতিবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে আসা বরিশালগামী বেপরোয়া গতির একটি কাভার্ডভ্যান ভ্যানটিকে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে ভ্যানটি সম্পূর্ণ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই কোহিনুর বেগম ও নয়ন হাওলাদার মারা যান।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাসলিমা বেগম ও ভ্যানচালক রনিকে উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাসলিমাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।
দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা তাতিবাড়ি এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও থানা পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
মস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন রশিদ বলেন, “কাভার্ডভ্যানের চাপায় ঘটনাস্থলে দুইজন এবং হাসপাতালে আরও একজন নিহত হয়েছেন। আহত ভ্যানচালক বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর কাভার্ডভ্যানটি পালিয়ে যাওয়ায় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুত ঘাতক যানটি শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে মহাসড়কের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”