পীরগাছায় নিয়ম ভেঙে জুনিয়র সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

পীরগাছায় পাঠক শিকড় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে জুনিয়র সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের

2026-01-24T16:41:51+00:00
2026-01-24T16:41:51+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
পীরগাছায় নিয়ম ভেঙে জুনিয়র সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক
পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:৪১ পিএম   (ভিজিট : ২৩৫)
X

পীরগাছায় পাঠক শিকড় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে জুনিয়র সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সরেজমিনে পরিদর্শনের পর অনিয়মের বিষয়টি উঠে আসায় পরিপত্র অনুযায়ী জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন ইউএনও। 

এদিকে পদ ধরে রাখতে এবার ইউএনওর বিরুদ্ধেই চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তুলেছেন সেই জুনিয়র সহকারী শিক্ষক মোশারফ হোসেন। তবে অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন ইউএনও। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৫ জুলাই চাকরি থেকে অবসর নেন প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র রায়। মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত পরিপত্র অনুযায়ী ওই পদ শূন্য হলে সহকারী প্রধান শিক্ষকই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করবেন। ওই প্রতিষ্ঠানে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নাজমা খাতুন থাকলেও সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে জুনিয়র সহকারী শিক্ষক মোশারফ হোসেনকে ভারপ্রাপ্তের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়। 

হাইকোর্টের রায়ে ম্যানেজিং কমিটি অবৈধ ঘোষণায় অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বভার হস্তান্তরের কথা ছিল। 

কিন্তু তৎকালীন ইউএনও নাজমুল হক সুমন বিষয়টি নিয়ে কার্যকর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেননি বলে অভিযোগ ওঠে। ফলে প্রধান শিক্ষক নিয়মবহির্ভূতভাবে জুনিয়র সহকারী শিক্ষক মোশারফকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান করেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়। 

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে যান সদ্য বিদায়ী ইউএনও শেখ মো. রাসেল। সে সময় ব্যাপক অনিয়মের কারণে ১৬ অক্টোবর তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ  দেন। ২৬ অক্টোবর কারণ দর্শানোর জবাব দেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোশারফ। তবে জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় ২৭ নভেম্বর তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে জ্যেষ্ঠতম আগ্রহী শিক্ষককে দায়িত্ব প্রদানের নির্দেশ দেন ইউএনও। ৩০ নভেম্বর ইউএনও শেখ মো. রাসেল বদলিজনিত কারণে বিদায় নিলে নতুন ইউএনও হিসেবে যোগ দেন দেবাশীষ বসাক। তিনি বর্তমানে পাঠক শিকড় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তাই জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে সব শিক্ষকের তথ্য চেয়েছেন ইউএনও।

এদিকে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অনিল চন্দ্র সরকার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে আবেদন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, দায়িত্ব গ্রহণে আগ্রহী হওয়ায় তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। অনিল চন্দ্র বলেন, ‘আমি আগেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছি। 

পরিপত্র অনুযায়ী আমারই দায়িত্ব পাওয়ার কথা। কিন্তু নিয়ম ভেঙে জুনিয়র শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ভাড়াটে লোকজন দিয়ে ভয়ভীতি এমনকি বেতনভাতা বন্ধ করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

অভিভাবক রেজাউল করিম রেজা বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। পদ ধরে রাখতে ইউএনওর বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে তথ্য দিয়ে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করেছেন মোশারফ। 

এবিষয়ে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন বলেন, গত ১৩ জানুয়ারি ইউএনও তার কার্যালয়ে ডেকে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য চাপ ও নিয়োগের বৈধতার বিষয়ে বিভিন্ন কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়। 

ইউএনও দেবাশীষ বসাক বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ সঠিক নয়। অনিল চন্দ্রের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে নোটিশ দিয়ে ডাকা হয়। জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে প্রথম এমপিওভুক্তিসহ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy