আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান ও ফেনী-২ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, হাদির খুনিদের আমরা পালিয়ে যেতে দেখেছি। হাদি হত্যার প্রতিবাদে অনেক দলকে সোচ্চার হতে দেখিনি। এখন সংস্কার নস্যাৎ করে ফ্যাসিবাদকে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। দেশে এর খারাপ প্র্যাকটিস শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, শত শহীদের রক্তের অঙ্গীকারের এই দেশকে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। এ জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ফেনীতে ১০ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্বোধন উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, আমরা ঐকমত্য কমিশনে একসঙ্গে কাজ করেছি। রাষ্ট্র সংস্কারে নানা প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার পথে একটি দল কৃত্রিম আশঙ্কা তৈরি করেছে। আমরা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে শুরু থেকেই সরব ছিলাম।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা জামায়াতসহ হাসিনা বিরোধী সব দল স্বৈরাচারের পতনে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ ছিলাম। কিন্তু হাসিনার পতনের পর দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা আমাদের হতাশ করেছে। আমরা আশা করেছিলাম দেশে শান্তি ফিরবে, কিন্তু তা হয়নি।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান অভিযোগ করে বলেন, একটি দলের চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে মানুষ অতিষ্ঠ। যারা দীর্ঘদিন বাড়ি-ঘরে থাকতে পারেননি, তাদের গত দুই বছরের কর্মকাণ্ড আমাদের গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভয়ভীতি ও ষড়যন্ত্র চলছে। ইতোমধ্যে ছাগলনাইয়ায় আটজন আহত হয়েছেন। নানা হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। তবে আমাদের তরুণ প্রজন্ম এসব হুংকারে ভয় পায় না,আমাদের একজন মরলে আরেকজন দাঁড়িয়ে যাবে।
মঞ্জু আরও বলেন, মানুষ শেখ হাসিনাকে ভয় পায়নি, এদের কাউকেও ভয় পাবে না—ইনশাআল্লাহ। ফেনীর বিভিন্ন স্থানে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে গুরুতর সংশয় তৈরি হয়েছে।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ফেনীর নির্বাচনে কোনো সন্ত্রাস আমরা মেনে নেব না। বল প্রয়োগের চেষ্টা হলে নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি আমাদের আন্দোলন চলবে। দেশে ধোঁকাবাজির রাজনীতি চলছে—এই ভাঁওতাবাজি বন্ধ করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম বাদল, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য লিয়াকত আলী ভুঞা, সামছুদ্দিন ভুঞা, জেলা জামায়াতের আমির মুফতি মাওলানা আবদুল হান্নান, এনসিপির সদস্য সচিব শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিক, জেলা সংগঠক সুজা উদ্দিন, খেলাফত মজলিসের সভাপতি মুজাফফর আহমদ জাফরী, জেলা এবি পার্টির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার ফজলুল হক, জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক আনম আবদুর রহিমসহ ১০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।