
X
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় করিমপুর চা বাগানের ১৫ নম্বর সেকশনে অগ্নিকাণ্ডে এক চা শ্রমিকের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। মুহূর্তের মধ্যে ঘরের আসবাবপত্র, নগদ অর্থ ও বছরের পর বছরের কষ্টে জমানো মালামাল ভস্মীভূত হয়েছে। এতে পাঁচ সদস্যের পরিবারটি চরম মানবিক সংকটে পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত চা শ্রমিক সুরনারায়ণ গোয়ালা জানান, গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সরস্বতী পূজায় অংশগ্রহণের জন্য চা বাগানের মন্দিরে যান। পূজাস্থলে অবস্থানকালে তিনি জানতে পারেন, তার বসতঘরে আগুন লেগেছে। খবর পেয়ে দ্রুত বাড়িতে ফিরে এসে তিনি ঘরের ভেতরে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখেন।
তিনি বলেন, আগুনের তীব্রতা দেখে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে অচেতন হয়ে যান। এলাকায় পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় পরিবারের সদস্য বা প্রতিবেশীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। ফলে বসতঘরটি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।
সুরনারায়ণ গোয়ালা আরও জানান, “ঘরে রাখা আমার দুই মেয়ের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট করে জমানো কিছু স্বর্ণালংকার, নগদ ১০ হাজার টাকা এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র আগুনে পুড়ে গেছে। আমি একজন চা শ্রমিক, অল্প আয়ে সংসার চালাই। এখন আমাদের থাকার কোনো জায়গা নেই।”
এ বিষয়ে মুন্সিবাজার ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান রাহেল হোসেন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আমার প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে পাঠাই। পরে নিজে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি প্রত্যক্ষ করি।
তিনি জানান, তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে পরিবারটিকে ৫০ কেজি চাল, কিছু কাপড় ও নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আরও সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রাজনগর থানার ওসি মো. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘরের ভেতর থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুন লাগানোর কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি।
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল সিকদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে ৫,০০০ টাকা নগদ এবং কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন। তিনি পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করেন যে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের জন্য একটি বড় ধরনের সহায়তা ব্যবস্থা করা হবে।