
X
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই জমজমাট হয়ে উঠেছে ২৫৭ নং কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) সংসদীয় আসনের নির্বাচনী মাঠ।
শীতের সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী এলাকা। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে চাইছেন ভোট। তবে এ আসনে এবার ত্রিমূখী লড়াইয়ে পাল্টে যাতে পারে ভোটের হিসাব-নিকাশ।
কুমিল্লার গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে এবার মোট আট জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও, সাধারণ ভোটার ও মাঠ পর্যায়ের পর্যালোচনায় মূল লড়াইয়ে ভোটের মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন পাঁচ প্রার্থী। এরা হলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রার্থী মো. আবুল কালাম (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিরা আজিম দোলা (ফুটবল), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ড. ছৈয়দ এ.কে.এম সরওয়ার উদ্দীন ছিদ্দীকি (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ প্রার্থী মো. আবু বকর সিদ্দিক (চেয়ার) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী সেলিম মাহমুদ (হাতপাখা)। এছাড়াও এ নির্বাচনে আরও তিন জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তাদের প্রচার প্রচারণা তেমন চোখে পড়েনি। ওই তিন প্রার্থী হলেন- জাতীয় পার্টি প্রার্থী প্রফেসর ড. মো. গোলাম মোস্তফা কামাল (লাঙ্গল), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী (ছড়ি) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবুল কাসেম (হাঁস)।
ভোটের মাঠে বিএনপি প্রার্থী মো. আবুল কালাম মাঠ পর্যায়ের প্রাথমিক জরিপ ও স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষণে জয়ের দৌড়ে আপাতত এগিয়ে রয়েছেন। লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ এলাকাটি ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপির দূর্গ ও ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত হওয়ায় তিনি বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন বলে মনে করছেন তার দলের নেতাকর্মীরা। তবে বিএনপি প্রার্থীর এ ভোট ব্যাংকে এবার বাধা হয়ে দাড়িয়েছে এ আসনের বিএনপির সাবেক এমপি প্রয়াত কর্নেল (অব.) এম. আনোয়ারুল আজিমের কন্যা স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিরা আজিম দোলা।
এ আসনে তার প্রয়াত বাবা কর্নেল (অব.) এম. আনোয়ারুল আজিমের ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে তার কন্যাও ইতোমধ্যে মানুষের কাছে অনেকটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। ফলে মনোহরগঞ্জ উপজেলায় বিএনপি প্রার্থীর কিছুটা ভোট নড়চড় হতে পারে। বিএনপির সাবেক এমপি প্রয়াত কর্নেল (অব.) এম. আনোয়ারুল আজিমের কন্যা সামিরা আজিম দোলা বিএনপির মনোনয়ন লাভের জন্য ব্যাপক লবিং করেছিলেন। দল তাকে মনোনয়ন না দেয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। তবে তার নিজ এলাকা মনোহরগঞ্জ উপজেলায় জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে ক্রমান্বয়ে এগিয়ে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিরা আজিম দোলা। ফুটবল প্রতীক নিয়ে তিনি বিরামহীন প্রচারণা চালাচ্ছেন। মাঠ পর্যায়ে তার সরব উপস্থিতি ভোটারদের মাঝে বেশ সাড়া জাগিয়েছে, যা তাকে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন তার অনুসারীরা।
এদিকে, এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. ছৈয়দ এ.কে.এম সরওয়ার উদ্দীন ছিদ্দীকি শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। তিনি নিয়মিত বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। প্রচারণায় তিনিও পিছিয়ে নেই। রাজনৈতিক দলের বাহিরেও তার ভিন্ন রকম জনপ্রিয়তা রয়েছে মানুষের কাছে। এই জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে তিনি রয়েছেন ভোটের মাঠে সরব। তবে ভোটাররা বলছেন, বিএনপির প্রার্থী মো. আবুল কালাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিরা আজিম দোলার ভোট ভাগাভাগিতে শেষ পর্যন্ত এই তিন প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে জিতে যেতে পারেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. ছৈয়দ এ.কে.এম সরওয়ার উদ্দীন ছিদ্দীকি।
অপরদিকে, গণসংযোগে বসে নেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী সেলিম মাহমুদ ও ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ প্রার্থী মো. আবু বকর সিদ্দিক। ইসলামিক দল হিসেবে তারাও ভোটারদের মন জয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত এ আসনের দুই উপজেলা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন চেয়ার প্রতীক নিয়ে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ প্রার্থী মো. আবু বকর সিদ্দিক। তিনি এর আগেও এ আসনে নির্বাচন করেছেন। ফলে ভোটারদের কাছে তিনি একজন পরিচিত মুখ। সুন্নী জোটের প্রার্থী হিসেবে তারও ভোটার রয়েছে অনেক।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী সেলিম মাহমুদ চরমোনাই অনুসারীদের পছন্দের একজন প্রার্থী। তিনিও হাতপাখা প্রতীক নিয়ে এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। এলাকায় তারও জনপ্রিয়তা রয়েছে ব্যাপক। তবে শেষ পর্যন্ত কে হবেন আগামী পাঁচ বছরের জন্য এ আসনের কান্ডারি, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন সাধারণ মানুষ।
এদিকে নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২৫৭ নং কুমিল্লা-৯ এ আসনে লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ দুই উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ১৯ টি ইউনিয়ন রয়েছে। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৫'শ ৩৫ জন। দুই উপজেলায় ১৩৪ টি কেন্দ্রে ৯৬৪ টি কক্ষে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।