প্রকাশ: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম (ভিজিট : ১২৪)

X
একদিকে মেয়ের বিয়ের আয়োজন থমকে যাওয়া অসহায় মা, অন্যদিকে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে শয্যাশায়ী দিনমজুর—ভিন্ন দুই গল্প হলেও মিল এক জায়গায়। চরম সংকটে থাকা এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন সারাদেশে ‘মানবিক ডিসি’ হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
চান্দগাঁও থানার সিএন্ডবি এলাকার বাসিন্দা নাছিমা বেগম নিজে অসুস্থ। তাঁর স্বামী আবুল কালাম দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। চার মেয়ের মধ্যে তিনজনের বিয়ে কোনোভাবে সম্পন্ন হলেও ছোট মেয়ের বিয়ের খরচ জোগাড় করতে গিয়ে চরম অসহায় হয়ে পড়েন তিনি।
অবশেষে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে হাজির হয়ে সহায়তার আবেদন জানান নাছিমা বেগম। জেলা প্রশাসকের এককালীন আর্থিক সহায়তা পেয়ে মেয়ের বিয়ের আয়োজনের সাহস ফিরে পান তিনি।
নাছিমা বেগম বলেন, “মেয়ের বিয়ের দিন ঠিক হলেও টাকার অভাবে সব থেমে যাচ্ছিল। ডিসি স্যারের সাহায্য না পেলে কী করতাম জানি না।”
অন্যদিকে সাতকানিয়ার মৈশামুড়া এলাকার দিনমজুর মোহাম্মদ ফরিদ হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা ও প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়েছেন। একসময় কাজ করে চার সন্তানের সংসার চালালেও ২০২৩ সালের পর থেকে তিনি সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। ধার-দেনার ওপর নির্ভর করে চলছিল তাঁর চিকিৎসা।
ফরিদের স্ত্রী খালেদা বেগম বলেন, “আমার স্বামী কিছুই করতে পারে না। সন্তানদের নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ছিলাম। জেলা প্রশাসক স্যারের সহায়তাই এখন আমাদের বাঁচার ভরসা।”
ফরিদের মেয়ে ইসরাত আরা বলেন, “আব্বার চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় ছিল। স্যারের সাহায্যে আমরা আবার আশা পেলাম। ডিসি স্যার সত্যিই একজন মানবিক মানুষ।”
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বুধবারের গণশুনানিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা একাধিক অসহায় মানুষের পাশাপাশি চট্টগ্রামের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের একটি সামাজিক সংগঠনকেও সহায়তা প্রদান করা হয়।
ব্যস্ত প্রশাসনিক দায়িত্বের মাঝেও সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টে পাশে দাঁড়ানোর এই মানবিক উদ্যোগই চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাকে সাধারণ মানুষের কাছে আস্থার প্রতীকে পরিণত করেছে বলে মনে করছেন সহায়তা পাওয়া নাগরিকরা।