পুঠিয়ায় গান-নাচের তালে পেঁয়াজ রোপণ ও উত্তোলনে ব্যস্ত কৃষক

পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

তীব্র শীত উপেক্ষা করে পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার কৃষকেরা। ভোর থেকেই চারা হাতে

2026-01-31T16:02:25+00:00
2026-01-31T16:02:25+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
পুঠিয়ায় গান-নাচের তালে পেঁয়াজ রোপণ ও উত্তোলনে ব্যস্ত কৃষক
পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:০২ পিএম   (ভিজিট : ১৩৭)
X

তীব্র শীত উপেক্ষা করে পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার কৃষকেরা। ভোর থেকেই চারা হাতে মাঠে নামছেন তারা। কোথাও চলছে পেঁয়াজ রোপণ, আবার কোথাও জমি থেকে উত্তোলন। এরই মধ্যে ভাল্লুকগাছি ইউনিয়নের কান্তার বিলে দেখা গেছে ব্যতিক্রমী চিত্র মাইক বাজিয়ে গানের তালে পেঁয়াজ রোপণ করছেন কৃষকেরা। কাজের ফাঁকে নাচতেও দেখা যাচ্ছে তাদের।

সরেজমিনে পুঠিয়া, ভাল্লকগাছি, জিউপাড়া, শিলমাড়িয়া ও বানেশ্বর ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, সারিবদ্ধ লাইনে লাইনে কৃষকেরা হাতে পেঁয়াজের চারা নিয়ে জমিতে রোপণ করছেন। শীতের প্রকোপে শ্রমিক সংকট দেখা দিলেও জীবিকার তাগিদে কাদাপানি মাড়িয়ে মাঠে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

ভাল্লকগাছি ইউনিয়নের কান্তার বিলে সোহাগ, নাহিদসহ কয়েকজন চাষি জানান, শীতের সময় অনেক শ্রমিক মাঠে নামতে চান না। তাই কাজের একঘেয়েমি কাটাতে এবং সবাইকে উৎসাহিত করতে গান চালিয়ে কাজ করছেন তারা। এতে কাজের গতি যেমন বাড়ছে, তেমনি কৃষকদের মনোবলও চাঙা থাকছে।

চাষিদের একটি দলের গ্রুপ প্রধান রকিবুল ইসলাম ফারুক বলেন, তার দলে ১৪ জন শ্রমিক রয়েছেন। তারা প্রতিদিন গড়ে দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ রোপণ করেন। চলতি মৌসুমে তার দল প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ রোপণ সম্পন্ন করেছে।

একদিকে রোপণ চললেও অন্যদিকে অনেক জমিতে মুড়ি কাটা বা ঢেমনা পেঁয়াজ উত্তোলন শুরু হয়েছে। শীত মৌসুমে পুঠিয়া উপজেলায় দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন জাতের পেঁয়াজ চাষ হয়ে থাকে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে ভালো ফলন পেয়ে খুশি বানেশ্বর ইউনিয়নের কৃষকেরা।

সরেজমিনে বানেশ্বর ইউনিয়নের শিবপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মোতালেব হোসেন ৪ বিঘা, মনসুর আলী ২ বিঘা এবং আশরাফ আলী ১ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। পুঠিয়া কৃষি অফিসের সহায়তায় প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলায় ১ হাজার ২৫০ জন কৃষক এন-৫৩ জাতের পেঁয়াজ রোপণ করেন।

চাষিদের ভাষ্য, মুড়িকাটা জাতের তুলনায় এই জাতের পেঁয়াজে লাভ বেশি। প্রতিটি পেঁয়াজের গড় ওজন প্রায় ২৫০ গ্রাম। চার থেকে পাঁচটি পেঁয়াজে এক কেজি হয়।

চাষি মনসুর আলী বলেন, এক বিঘা জমি থেকে ইতোমধ্যে ১০০ মন পেঁয়াজ উত্তোলন করে বিক্রি করেছেন। প্রতি মন ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। আরও প্রায় ৫০ মন পেঁয়াজ উত্তোলনের আশা করছেন তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার বলেন, চলতি শীত মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে পেঁয়াজ চাষে কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বছর উপজেলায় ৪ হাজার ১৮৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপণ হয়েছে। প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ৩৩০ জন কৃষককে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy