মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে নানিয়ারচর উপজেলার আমের বাগানগুলো। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে এ যেন বাগান মালিকদের সোনায় সহাগা। অন্যান্য প্রতিটি গাছে আসতে শুরু করেছে মুকুলের মোহ। এ বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আম উৎপাদিত হবে বলে কৃষি বিভাগ ধারণা করছেন।
অন্যদিকে বাগান মালিকরা এ বছর আমের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন। এবার উপজেলায় ৩৮০ হেক্টর জমির বিপরীতে ৫২০০ মেট্রিকট্রন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ, ছড়াচ্ছে সেই মুকুলের সুবাসিত পাগল করা বাতাস। বাতাসে মিশে সৃষ্টি করছে মৌ মৌ গন্ধ। যে গন্ধ মানুষের মন ও প্রাণকে বিমোহিতসহ মুকুলের আশেপাশে মৌমাছির আনাগোনা। অনেকেই মুকুল রক্ষা করতে বাগান মালিকরা পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে গাছে গাছে ওষুধ স্প্রে করতে দেখা যাচ্ছে। অনেক আমবাগান মালিক বলছেন এ বছর আমের ফলন নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে উপজেলায় চারটি ইউনিয়নে ৩৮০ হেক্টর জমিতে আমগাছ রয়েছে। এর মধ্যে ফজলি, আশ্বিনা, ল্যাংড়া, খিরসাপাত, গোপাল ভোগ,আমরুপালি , মল্লিকা , লক্ষণভোগ, বোম্বাই , ব্যানানা, মিয়াজাকি বা সূর্য ডিম উন্নত জাতের প্রচুর পরিমানে আম গাছ রয়েছে।
উপজেলার বুড়িঘাটের আম বাগান মালিক আব্দুল হক মিয়া বলেন, বর্তমানে আবহাওয়া ভাল থাকায়, বাগানের গাছে গাছে মুকুল ফুটতে শুরু করেছে। তার বাগানে গত কয়েক সপ্তাহ থেকে বেশির ভাগ গাছে মুকুল ফুটতে শুরু করেছে।
পোকা-মাকড় ও অন্যান্য রোগবালাই থেকে মুকুল রক্ষা করতে প্রাথমিক পর্যায়ে পরিচর্যা শুরু করা হয়েছে। বড় ধরনের কোনো দুর্যোগ না হলে আমের বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি ধারণা করছেন।
ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ভূইঁয়া জানান, আম বাগানে মুকুল আসার পর থেকেই গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছে চাষীরা। মুকুলে রোগবালাইয়ের আক্রমন থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ স্প্রে করছেন।
এ বিষয়ে নানিয়ারচর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো: হারুন মিয়া বলেন, এখন পর্যন্ত উপজেলার আম গাছগুলো মুকুল এসেছে শতকরা ২০% জমিতে। উপজেলা কৃষি বিভাগ ও উপসহকারী কৃষি সহকারী কর্মকর্তারা কৃষকদের মোট ৩টি স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রথমে মুকুল আসার আগে ও পরে এবং মুকুল মটর দানা বাধার সময় একটি ছত্রাকনাশক ও একটি কীটনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। যাতে পোকাসহ অন্যান্য রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমন না হয়। তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে নানিয়ারচর উপজেলায় আম উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ৫২০০ মেট্রিকট্রন।
তবে আবহাওয়া অনুকূল থাকলে আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন হবে বলে।