
X
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে নারী ও পুরুষ সবার সমান অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বিএনপি রাজনীতি করে এ দেশের মানুষের কল্যাণে, আর সে লক্ষ্যেই বিএনপি যতবার সরকার গঠন করেছে, ততবারই দেশের উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় যশোর উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি দেশের বাস্তব সমস্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে চায়। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলেই কেবল দেশ ও মানুষের প্রকৃত সমস্যার সমাধান সম্ভব। তিনি বলেন, “গত ১৬-১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অসংখ্য মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, কেউ কেউ জীবন দিয়েছেন। এই আত্মত্যাগের যথাযথ প্রতিদান দিতে হলে শুধু সভা-সমাবেশ নয়, আগামী ১২ তারিখ জনগণকে সোচ্চার হতে হবে।”
কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, যশোর অঞ্চলে কৃষি ও ফুল চাষের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করলে এখানকার ফুল দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা করা হবে। কৃষি উন্নয়নের অংশ হিসেবে শার্শার উলশি খাল খননসহ সব বিল ও খাল উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
নারী উন্নয়ন বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে মেয়েদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনা খরচে শিক্ষার সুযোগ চালু করা হয়েছিল, যার সুফল দেশ আজও পাচ্ছে। ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করলে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রতিটি মায়ের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় বীজ ও সার ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর কথাও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, তরুণ সমাজকে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং বিদেশে কর্মসংস্থানে আগ্রহীদের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য মাসিক সম্মানীর ব্যবস্থার আশ্বাস দেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, ১২ তারিখে ধানের শীষ বিজয়ী হলে ১৩ তারিখ থেকেই এসব কার্যক্রম শুরু করা হবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট সৈয়দ সাবরুল হক সাবু। বক্তব্য দেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, অধ্যাপক নার্গিস বেগম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুলসহ আরও নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ পরিচালনা করেন যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন।
নির্বাচনী সমাবেশ শেষে প্রধান অতিথি তারেক রহমান জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তিদের এবং শহীদদের পিতা-মাতার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পরে বিকেল সাড়ে ৩টায় হেলিকপ্টারযোগে তিনি যশোর ত্যাগ করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।