
X
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার ডালিয়া পয়েন্টে জনসভায় দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দলগুলোর সমালোচনা করে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের মানুষ তোমাদের অনেক দেখেছে এখন বিশ্রামে যাও। এবার আমাদের একটু সুযোগ দাও। আমরা বসন্তের কোকিল নই। আমরা দেশের উন্নয়ন কাজ করে ইতিহাস সৃষ্টি করব ইনশাআল্লাহ। জামায়াত আমির বলেন, ওরা রাজনীতির নামে দুর্নীতি করেছে। দুর্নীতি আর রাজনীতি একসাথে চলে না। ওদের রাজনীতি করার অধিকার নেই। আমরা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ব।
তিনি বলেন, তিস্তা এই অঞ্চলের মানুষের অহংকার। কথা দিচ্ছি, তিস্তাকে আমারা পূর্ণতা দিব। তিস্তা হবে উত্তর অঞ্চলের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু। যেকোনো কিছুর বিনিময় হলেও আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবো। আমরা বুড়িমারী স্থল বন্দরের উন্নয়ন করব। সড়কপথ ও রেলপথের উন্নয়নসহ প্রয়োজনীয় উন্নয়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, উত্তর অঞ্চল অবহেলিত। এ অঞ্চল থেকেই উন্নয়নের বীজ রোপণ করা হবে। দীর্ঘদিন এ জাতিকে বিভক্ত করে একদল মতলববাজ ব্যবসা করেছেন, চাঁদাবাজি করেছেন। এটা আমরা বন্ধ করতে চাই। উত্তর অঞ্চলে কৃষি শিল্পের রাজধানী করা হবে।
জামায়াতের আমির বলেন, একদল ভয়ে আছেন। ভয়ের কারণ নেই। আমরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবো। আমরা সবাইকে নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা জীবন দিব তবু আমার মা-বোনদের গায়ে হাত দিতে দিব না। আমরা নারী জাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করব।
তিনি বলেন, কেউ কেউ প্রথমে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে ছিলেন না। পরে যখন দেখে অবস্থা খারাপ তখন হ্যাঁ ভোটের পক্ষে কথা বলছেন। আমরা বসন্তের কোকিল না। আমরা দেশে ছেড়ে পালিয়ে যাই না। আমরা দেশে আছি দেশেই থাকব।
তিনি আরও বলেন, আমি জামায়াতের বিজয় চাই না, আমি ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। আমি হ্যাঁ ভোটের বিজয় চাই। হ্যাঁ ভোটের বিজয় মানে জনতার বিজয়, এতে নতুন বাংলাদেশ পাব।
লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের আমীর ও লালমনিরহাট-৩ আসনের প্রার্থী আবু তাহের এর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, ১১ দলীয় জোটের নেতারা। এর আগে জামায়াতের আমীর কুড়িগ্রাম থেকে তিস্তা ব্যারাজ হেলিপ্যাড মাঠে হেলিকপ্টারে আসেন।
শফিকুর রহমান বলেন, মানুষ বাংলাদেশের পরিবর্তন চায়। এবারের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন না। এবার দুটি ভোট— একটি ‘হ্যাঁ’, ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি। ‘হ্যাঁ’ ভোট মা-বোনদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে। আপনারা প্রথম ভোটটা ‘হ্যাঁ’ তে দেবেন, দ্বিতীয়টা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীকে দিয়ে ইনসাফ কায়েম করবেন। আপনারা আপনাদের মনোনীত প্রার্থী বিজয়ী করে এ লড়াইয়ে বিজয়ী হবেন এই প্রত্যাশা রইল।