
X
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও লোহাগাড়া উপজেলায় ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও নির্বাচন অফিসের আয়োজনে বুধবার অনুষ্ঠিত এসব সভায় ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সততা, নিরপেক্ষতা ও সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির আয়োজনটি শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়, এটি নতুন বাংলাদেশের একটি রূপরেখা। যে বাংলাদেশে ন্যায্য দাবি আদায়ে রক্ত দিতে হয়েছে—সেই ক্ষত মেরামতের একটি সুযোগ এটি। এই আয়োজনে ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ভোটগ্রহণে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। আনসার, র্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনী ও পুলিশসহ সব বাহিনীর ইতিহাসের সর্বোচ্চ ডেপ্লয়মেন্ট করা হয়েছে। অতীতে মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি, রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমরা সেই অবস্থার পরিবর্তন চাই।
ডিসি জাহিদুল ইসলাম আরও বলেন, এই দেশের মানুষ যেন নিরাপদে ভোট দিতে পারে—সে দায়িত্ব আপনাদের ওপর। দায়িত্ব শতভাগ নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে। কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীর প্রতি শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না। নির্বাচন কমিশন কোনো দায়সারা ভাব গ্রহণ করবে না। প্রত্যেকটি সেকেন্ড মনিটরিংয়ের আওতায় থাকবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর মোবাইল টিম ৩–৫ মিনিটের মধ্যে, সর্বোচ্চ ১৫ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে। তবে ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন—সেই পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব আপনাদের।
গণভোট প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, দলীয় ভোটের পাশাপাশি গণভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভোটাররা এ বিষয়ে প্রশ্ন করবেন। কোনো কর্মকর্তা বলতে পারবেন না—‘আমি জানি না’। আইন অনুযায়ী দায়িত্বের সঙ্গে দেওয়া ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এই আয়োজন বাংলাদেশকে জেতাতে হলে একটাই পরিচয় যথেষ্ট—নিরপেক্ষতা। সরকারি কর্মচারী হিসেবে নিরপেক্ষ থাকা আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। আইন যে নির্দেশনা দেবে, তা মানতে হবে। প্রয়োজনে ত্যাগ স্বীকারের চ্যালেঞ্জ নিতে হবে।
সভায় জানানো হয়, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। কোনো অনিয়ম হলে দায়মুক্তির সুযোগ থাকবে না। কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান, মেজর মো. আসিফুর রহমান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক গোলাম মঈনউদ্দিন হাসান, আনসার ও ভিডিপির সহকারী পরিচালক ফরিদা পারভিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।